‘‌শোকে পাথর হয়ে যেতে হয়, এমনই ঘটনা।’‌ বলেছেন জম্মু–‌কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। কাশ্মীরে পাথর ছোঁড়া নতুন কিছু নয়। সেনাবাহিনী ও পুলিসের ওপর ক্ষোভ আছড়ে পড়ে অসংখ্য পাথর হয়ে। যখন সেখানে বাহিনীর ‘‌অত্যাচার’‌ বাড়ে, পাথরের সংখ্যাও বাড়ে। কারা ছোঁড়ে?‌ প্রায় সকলেই অল্পবয়সি। যুবক তো বটেই, কিশোররাও বিক্ষোভে উত্তাল হয়। স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের পাথর ছোঁড়ার ছবিও অনেক প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এবার সোপিয়ানে যা হল, তার চরিত্র ভিন্ন। প্রাথমিক খবর, অল্পবয়সিরা নয়, বাসে পাথর ছুঁড়েছে নৃশংস কিছু মানুষ, যাদের বয়স কম নয়। আবেগচালিত হয়ে, ভেতরের তাগিদে পাথর ছোঁড়ে অল্পবয়সিরা। এবং তার আগে হয়তো ঘটেছে ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো ঘটনা। সোপিয়ানে ওই বাসে ছিল স্কুলের বাচ্চারাই বেশি। দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে। সেই ছবি দেখে চোখে জল আসে, দুষ্কৃতীদের ওপর চরম রাগ হয়। বোঝাই যাচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মার্কামারা সন্ত্রাসবাদীরা। পাকিস্তানের সঙ্গে মিলেমিশে–‌থাকা নির্মম জঙ্গিরা। এমন নয় যে, কাশ্মীরের অধিকাংশ মানুষ ভারত–‌বিরোধী। তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এক, যাঁরা সরাসরি ভারত–‌বিদ্বেষী, পাকপন্থী। দুই, যাঁরা পাকপন্থী নন, কিন্তু স্বাধীন কাশ্মীরের স্বপ্ন দেখেন। তিন, যাঁরা ভারতের মধ্যে থেকেই ভালভাবে বাঁচতে চান। শাসকরা চিরকালই দিল্লি থেকে গিয়ে ভাল ভাল কথা বলে এসেছেন। রাজ্যের প্রকৃত উন্নতির জন্য কিছু করেননি। গরিব কাশ্মীরিদের দুর্গতি ক্রমশ বেড়েছে। কোনও উন্নয়ন হয়নি। যাবতীয় খরচ বরাদ্দ থেকেছে ওই ভূখণ্ডকে দখলে রাখার জন্য, বাহিনীর জোরে। যাঁরা ভারতেই থাকতে চান, তাঁদের সংখ্যা অনেক বেশি। কত আইএএস উঠে আসছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও উজ্জ্বল কৃতীরা। আমরা শুধু ডাল লেক, পহলগাঁওয়ে বেড়াতে যেতে পারলেই খুশি। শান্তিপ্রিয় কাশ্মীরবাসী তথা ভারতবাসীদের বিপদে ফেলার জন্যই সোপিয়ানের দুষ্কাণ্ড। শোকে পাথর ও ক্ষোভে আগুন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top