এবার রাজ্য বাজেটে কন্যাশ্রী প্রকল্পে বার্ষিক ভাতা ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে হল ১০০০ টাকা। এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, আরও একটু এগিয়ে দিয়ে নিশ্চয় প্রশংসা পাবে রাজ্য সরকার। নতুন এল রূপশ্রী প্রকল্প। ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর যদি স্বল্পবিত্ত (‌বার্ষিক আয় দেড় লক্ষ টাকার মধ্যে)‌ পরিবারের মেয়ের বিয়ে হয়, সরকার দেবে ২৫ হাজার টাকা। কন্যাশ্রী প্রকল্প এবার আরও প্রসারিত হল। সরাসরি সমালোচনা করা কঠিন, দুই বিরোধী বিধায়ক ‘‌যদিও, কিন্তু’‌ ইত্যাদি শব্দ দিয়ে বাক্য শুরু করে একটু ভিন্ন সুরে বাজার চেষ্টা করলেন। হাস্যকর। নাবালিকা বিয়ে আটকানোর ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। বয়স ১৮ হয়নি, তবু মেয়ের বিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন কেন গরিব বাবা?‌ মেনে নিতে কার্যত বাধ্য হন কেন মা?‌ ভাবেন, স্বাভাবিকভাবে বিয়ে দিতে হলে কিছু খরচ তো আছেই। নাবালিকাকে বিয়ে করার জন্য অতি আগ্রহী কিছু মানুষ, পরিবার বিরল নয়। কোনও খরচ করতে হবে না, আমরাই খরচ করে মেয়েকে ঘরে তুলব— আইন–‌ভাঙা পাত্রপক্ষের ফাঁদে পা দেন, পা দিতে বাধ্য হন গরিব মা–‌বাবারা। এখন ওঁরা জানছেন, বিয়ের ন্যূনতম খরচটুকু দেবে সরকারই। কন্যাশ্রী প্রকল্প গরিব ঘরের মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ ও উৎসাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার এই মেয়েরা জানবেন, ওঁদের বিয়ে নিয়ে মা–‌বাবার দুশ্চিন্তা কমল। একটি মেয়ে আর ‘‌বোঝা’‌ হয়ে জন্মাবে না, পড়ার সঙ্গে তার বিয়ের খরচও এসে যাচ্ছে, মাথা নিচু করে থাকার দিন শেষ। কেউ কেউ বলছেন লিখছেন, এ তো ডোল বাজেট, অনুদানের বাজেট। তো, যদি সরকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে–‌থাকা পরিবারের কাছে, সেইসব পরিবারের মেয়েদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেয়, ভাল নয়?‌ শ্রী কাহিনী বন্দিত হোক।

জনপ্রিয়

Back To Top