এই গল্পে একটি বা কয়েকটি ফ্যাক্স মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ঘটনাস্থল শ্রীনগরে রাজভবন। সেখানে নিশ্চয় এক নয়, কয়েকটি ফ্যাক্স–‌যন্ত্র রয়েছে। সেদিন সন্ধেয় অনেক চেষ্টা করেও বার্তা পৌঁছে দিতে পারলেন না মেহবুবা মুফতি। খবর ছিল, সাজ্জাদ লোনকে সামনে রেখে পুতুল সরকার দাঁড় করাতে চাইছে বিজেপি। পিপলস পার্টির বিধায়ক সংখ্যা লোনকে নিয়ে মাত্র ২। বিজেপি–‌কে সঙ্গে নিয়েও সরকার গড়া অসম্ভব। পিডিপি ভাঙার চেষ্টা চলছিল। সতর্ক হয়ে যান শুধু মেহবুবা নন, ওমর আবদুল্লাও। কংগ্রেস অনেক আগে থেকেই বিজেপি–‌বিরোধী সরকার চেয়েছে। গুলাম নবি আজাদ দুই যুযুধান আঞ্চলিক দলের সঙ্গে কথা বলে সফল হন। রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হলেও, বিধানসভা ভাঙা হয়নি। মেহবুবা মুফতি রাজ্যপালের কাছে দাবি জানিয়ে বার্তা পাঠাতে চাইলেন, এনসি ও কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে তিনি সরকার গড়তে প্রস্তুত। বারবার চেষ্টা, কিন্তু ব্যর্থ। বার্তা ঢুকল না। নিরুপায় মেহবুবা টুইটারে বার্তা দিলেন। মুখ্য সচিবকে ফোন করলেন। এদিকে, রাজ্যপাল বলে দিলেন, ফ্যাক্স বার্তা এসেছে সাজ্জাদ লোনের কাছ থেকে সেই সন্ধেতেই, সরকার গড়ার দাবি জানিয়ে। মেশিন হয় ভাল থাকে, নয় খারাপ। একই মেশিনে পিডিপি নেত্রীর বার্তা ঢুকল না, কিন্তু লোনের বার্তা ঢুকে গেল!‌ রহস্য বটে। কাশ্মীরে মহান কর্ম সেরে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক গেলেন গোয়ালিয়রে, এক অনুষ্ঠানে। নানা বিষয়ে বলছিলেন বক্তারা। একজন বললেন, চম্বল নদীর দূষণ নিয়ে ভাবলেই হবে না, শ্রীনগরে রাজভবনের ফ্যাক্স মেশিনটা নিয়েও জানতে হবে!‌ পরে বক্তৃতা করতে উঠে সত্যপাল মালিক সেই রহস্যে ঢুকলেন না। বরং দারুণ একটা তথ্য দিলেন। ‘‌কেন্দ্রের কথা শুনেই যদি চলতাম, সাজ্জাদ লোনকে সরকার গড়তে দিতাম!‌’‌ সোজা কথা, কেন্দ্র পুতুল সরকার বসাতে চেয়েছিল। পরে হয়তো নানাদিক ভেবে পিছিয়ে আসে। চিন্তা, তারপর রাজ্যপালের চেয়ার থাকবে তো?‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top