দুঃসংবাদ। দেশের একমাত্র ওরাংওটাং বিন্নি মারা গেছে। মারা গেছে ওডিশার নন্দনকাননে। বয়স হয়েছিল ৪১ বছর। বেশ কয়েকদিন অসুস্থ ছিল। তাকে সুস্থ করবার চেষ্টা হয়েছে আপ্রাণ। আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের পশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল। কিন্তু বয়সের কারণে ওষুধ নাকি কাজ করেনি। বিন্নি নন্দনকাননে এসেছিল বিদেশ থেকে। বিরল প্রজাতির পশুপাখির মৃত্যু সবসময়েই উদ্বেগের। এতে জীবজগতের ভারসাম্য নষ্ট হয়। পরিবেশ হয় বিপন্ন। ওডিশার নন্দনকানন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। তাঁরা চেষ্টা করেছেন। এটাই সবাই বুঝতে চায় না। আজও জঙ্গলে পাহাড়ে সমুদ্রে বহু প্রাণী বিপন্ন। অবলুপ্তির পথে। তার জন্য বহু অংশে মানুষই দায়ী। হয় তারা পরিবেশকে নষ্ট করছে, নয় অর্থের লোভে বিরল প্রজাতির প্রাণীকে করছে হত্যা। তার হাড়, নখ, চামড়া নিয়ে ব্যবসা করছে। মানু্ষ আজও বুঝতে চায় না, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানবজাতিরই ক্ষতি। প্রকৃতিকে ধ্বংস করা যায় না, তেমন প্রাণী জগৎকেও রক্ষা করতে হয়। মানুষ যদি মনে করে, এই পৃথিবী শুধু আমার, এখানে শুধু আমিই থাকব, এখানে আর কারও টিকে থাকার অধিকার নেই, সেটা হবে মস্ত ভুল ভাবনা। এই পৃথিবী সবার। এখানে মানুষও যেমন বঁাচবে, বঁাচবে বাকি প্রাণী জগৎ, বঁাচবে প্রকৃতি। সবাই থাকলে তবেই পৃথিবী সুন্দর, পৃথিবী হয় বসবাসের যোগ্য। যারা সংখ্যা দিয়ে গুরুত্ব মাপে তারা ভুল করে। যারা হুঙ্কার দেয় তারা ভুল করে। আপাত সামান্য, আপাত নগণ্যদেরও গুরুত্ব অপরিসীম। সে–‌ও সম্মান, মর্যাদার অধিকারী। আমাদের দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের ক্ষেত্রেও এই কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠের শক্তিশালী হুঙ্কার নস্যাৎ হওয়ার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বারবার লেখা হয়েছে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top