ইমরান বললেন। ব্যক্তি ইমরান নয়। আর্মি ও আইএসআইয়ের কথাই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে এল। পাকিস্তানে এরকমই হয়ে থাকে। আর্মি–‌আইএসআই–‌কে তুষ্ট করে চলতে হয় পাক প্রধানমন্ত্রীকে। ভোটে জয় বড় কথা নয়। অন্য পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীদের মতো ইমরানও ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণে বিরতি দেননি। উগ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে গেলে উগ্র বাহিনী সন্তুষ্ট হয়। উগ্র জনমত সঙ্গে থাকে, যদিও সে দেশের বহু মানুষ সেই উগ্রতার বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়েও ‘‌যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই’‌ স্লোগান দিয়ে দেড়শোর বেশি মিছিল বেরিয়েছে পাকিস্তানে। কথা হল, ইমরান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন অনেক আপসের ভিত্তিতে। জেনেশুনেই যে, সেনা–‌গোয়েন্দা সংস্থার মদত নিয়ে চলা ছাড়া উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী হয়েই প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে ডাক দিয়েছিলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত যদি এক পা এগোয়, আমরা দু’‌পা এগোতে রাজি আছি। সেই বার্তা উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার, কারণ উত্তেজনা জিইয়ে রাখা মোদির দরকার। বালাকোট নিয়ে ভারতের প্রচার ও দাবি নিয়ে পাল্টা বলেছেন ইমরান। এবং মোদি বলে যাচ্ছেন, বায়ুসেনার বালাকোট হানা সম্পর্কে যারা তথ্য চাইছে, তারা দেশদ্রোহী। তাদের বর্জন করাই ভারতবাসীর কর্তব্য। ইমরান বলে বসলেন, মোদি তথা বিজেপি জিতলেই ভাল, সমাধানের পথ খুলতে পারে। বিরোধীরা এলে দক্ষিণপন্থীদের ভয়ে কিছু করতে পারবে না। কাশ্মীরে জঙ্গিদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সক্রিয়, গরম–‌গরম কথা বলতে হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্যও তো জানা যে, গত পাঁচ বছরে আড়াই গুণ বেড়েছে জঙ্গি হামলা। নতুন সরকার যদি কঠোর অবস্থান ধরে রেখেও আলোচনার পথে যায়, জঙ্গি প্রভাব কমতে পারে। পাকিস্তান তা চায় না।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top