সরকারি উচ্চপদাধিকারী মানেই তাঁর কোনও মতামত থাকবে না, নীতিগত পছন্দ–‌অপছন্দ থাকবে না, তা নয়। প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব ভাবনার জায়গা আছে। কিন্তু উচ্চ পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে যা বাধ্যতামূলক, তা হল, নিজের মতের প্রতিফলন কাজে পড়বে না। একফোঁটাও না। রাজনৈতিক পছন্দ–‌অপছন্দও থাকতে পারে, তা প্রকাশ করা যাবে অবসরের পরে বা সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে। এই সাধারণ নিয়মটা যাঁরা মানেন না, তাঁরা দেশ ও সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। কলকাতায় আরএসএস–‌এর ঘনিষ্ঠ সীমান্ত চেতনা সমিতির একটি সভা হয়ে গেল। সেখানে যে–‌ভাবনা প্রচারিত হল, তা কারও কারও কাছে গ্রহণযোগ্য, আমাদের কাছে বর্জনযোগ্য হতে পারে। অবাক কাণ্ড, আলোচ্য সভায় হাজির হয়ে গেলেন বিএসএফ–‌এর ডিজি কে কে শর্মা। বললেন, সীমান্তে পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন বিএসএফ–‌এর কিছু কর্মী। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর প্রধান কী করে এমন কথা বলতে পারেন প্রকাশ্যে?‌ উঁচু পর্যায়ে জানাতে পারেন। যদি সত্যিই এমন ঘটে, আটকানোর চেষ্টা করতে পারেন। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন বা সুপারিশ করতে পারেন। প্রকাশ্যে বলা এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারে যুক্ত হয়ে পড়া চলতে পারে?‌ দ্বিতীয় উদাহরণটিও একেবারে সাম্প্রতিক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওমান সফরে গিয়ে রাজধানী ম্যাসকটে প্রবাসী ভারতীয়দের সভায় ভাষণ দিতে চাইলেন। প্রবাসীরা সভা সংগঠিত করেননি। সংগঠক ভারত সরকার। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র পান্ডে দেখালেন, উদ্যোগ কাকে বলে!‌ সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিলেন, ভারতীয় কর্মীদের যেন ওই সভায় হাজির থাকতে বলা হয়। অন্তত ৮০ শতাংশ। দায়িত্ব ওইসব কোম্পানির। সভায় কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?‌ প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে যাঁরা কর্ণাটকের মানুষ, তাঁদের উদ্দেশেই ভাষণ। কর্ণাটকে বিধানসভা ভোট আসন্ন। কার্যত রাজনৈতিক ভাষণ। যাতে সংশ্লিষ্ট শ্রোতারা দেশে এসে বা দূর থেকেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেন। করদাতাদের টাকায়, সরকারি উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় রাজনৈতিক ভাষণ!‌ প্রধানমন্ত্রীর কথা ছাড়ুন। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূত কি সাধারণ রীতি‌নীতি মানলেন?‌ একের পর এক এমন ঘটনা, কোথাও কোনও সীমা থাকবে না?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top