শব্দবাজির দাপটকে রোখার জন্য উদ্যোগ ছিল সর্বাত্মক। পরিবেশ কর্মীদের প্রচার থাকে সারা বছর। বিশেষ করে কালীপুজোর দু’‌মাস আগে থেকে সেই প্রচার ওঠে তুঙ্গে। সংবাদমাধ্যম সেই লড়াইয়ে শামিল হয়। বিশিষ্ট চিকিৎসকরা সাবধান করে দেন। দূষণে কতটা ক্ষতি হতে পারে, হয়, সচেতন করার চেষ্টা হয়। অসহায় পশুদের দুর্গতি নিয়েও প্রচার চলতে থাকে। পরিবেশ সংগঠনের কর্মীদের অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য। তঁারা সামাজিক কর্তব্য পালন করলেন। এবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জঘন্য দাপট যেখানেই বেশি, দূষণ–‌বিরোধী পর্ষদ সক্রিয় থেকেছে। শুধু প্রচার নয়, ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলাও রুজু করেছে অনেকের নামে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। অভিনন্দন। এবং পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সজাগ করে দিয়েছিলেন বাহিনীকে, সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অতন্দ্র থেকেছেন। পথে বাড়তি ৫০০০ কর্মী নামিয়ে যথাসম্ভব নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা করতে চেয়েছেন। অনেকটা পেরেছেন। কালীপুজোর রাতে পুলিশ কমিশনার ও তঁার সহযোগীরাও সজাগ থেকেছেন। পুলিশকে নিঃসন্দেহে কুর্নিশ জানাতে হবে। তবু, কিছুটা শব্দ–‌তাণ্ডব থেকে গেল। লক্ষ লক্ষ পুলিশকর্মীকে নামানো হবে পথে, সম্ভব নয়। অত কর্মী থাকতে পারে না। যে–‌কোনও অপরাধ সম্পর্কেই বলা হয়, নির্মূল করা যাবে না, কিন্তু যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। সংবাদমাধ্যমের একাংশে পড়া ও দেখা গেল, ‘‌এবারও শব্দ–‌তাণ্ডব!‌’‌ অর্ধেক গ্লাস জলকে কীভাবে দেখবেন?‌ অর্ধেক ভর্তি, না অর্ধেক ফঁাকা?‌ যদি সাফল্যের সূত্রে ৭৫ শতাংশ জল থাকে গ্লাসে, তখনও একই কথা বলা হবে?‌ সন্দেহ নেই, এবার তাণ্ডব অনেক কম। কমছে, কমে চলেছে। ইতিবাচক। দিল্লির পুলিশ কেন্দ্রের হাতে, দেওয়ালির রাতে তাণ্ডব দ্বিগুণ। পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা ও শহরতলির পুলিশের সাফল্য গর্বিত করে গেল।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top