মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও তাঁর সহযোগী লোকসভা ভোটের সময় কীভাবে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতিকে রক্ষা করেছেন, নির্দেশ অমান্য করে সেনাবাহিনীকে প্রচারে প্রতিদিন ব্যবহার করা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেননি, জানা হয়ে গেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অরোরা বলেছেন, বারবারই বলে গেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কোনওরকম ত্রুটি থাকার প্রশ্ন নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত হল কিছু তথ্য, যার ফলে প্রশ্ন তো উঠছেই। প্রথম চার দফার নির্বাচনে ৩৭৩–‌এর মধ্যে ২২০ আসনে প্রদত্ত ভোট ও ইভিএম–‌এর ফলে ফারাক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, ঘোষিত প্রদত্ত ভোটের চেয়ে ইভিএম ভোট সংখ্যায় বেশি। ১৭ হাজার থেকে ৩২ হাজারের ফারাক। কমিশন প্রথমে একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিল, প্রাথমিক হিসেবের ভিত্তিতে প্রদত্ত ভোটের কথা বলা হয়, বাস্তবে একটু বেড়ে যেতে পারে।‌ একটু?‌ ১৭ হাজার থেকে ৩২ হাজার?‌ বিহারে ১৭টি কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে, ভোটের ব্যবধান ৪ থেকে ৮ হাজার। ৭টি আসনে ২০ হাজারের বেশি গরমিল। উদ্বেগজনক নয়?‌ প্রশ্ন উঠবে না?‌ প্রথম চার দফায় ৩৭৩–‌এর মধ্যে ২২০ কেন্দ্রে কিছু ফারাক ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৩০০–‌য় দাঁড়াতে পারে। ‘‌প্রদত্ত ভোট’‌ প্রাথমিক হিসেব, ইভিএম–‌এ কিছু বাড়তেও পারে— এই যুক্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।‌ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ‘প্রদত্ত ভোট’‌–‌এর তুলনায় ইভিএম–‌এর ভোট কম। উল্টে দিয়ে সবটাই সুবিধা মতো করেছে শাসক–‌কমিশন, এক কথায় বলে দিতে চাই না। যন্ত্রের গোলমাল না থাকলেও হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত বিজেপি। কিন্তু এত বড় ফাঁক নিয়ে হবে এত বড় একটা দেশের নির্বাচন?‌ উন্নত প্রযুক্তি?‌ আমেরিকা নিশ্চয় পিছিয়ে নয়, তবু কেন ব্যালটে ভোট?‌ ভোটের মুখে নয়, পাঁচ বছর ধরে দাবি তুলুন বিরোধীরা। ঘোষণা করুন, পরের ভোটে জিতলেও ব্যালটের পক্ষে থাকবেন। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top