চাকদার শিক্ষক দেবব্রত ব্যানার্জি। বই কিনে বাড়িতে গড়েছেন সাতটি লাইব্রেরি। প্রতিবছর বইমেলা থেকে বই কেনেন। কখনও কেনেন ৫০–‌৬০ হাজার টাকার, কখনও লাখ টাকার। এ বছর কিনেছেন ২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বই। বই তিনি পড়েন, স্থানীয় মানুষ পড়ে, ছাত্রছাত্রীরাও পড়ে। বই নিয়ে হয় আলোচনা। বইপাগল মানু্ষ কমে যাচ্ছে। এখন টিভি, মোবাইল, গাড়ি, বাড়ি পাগল মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সমাজের মুখ যেদিকে তাতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। মুক্ত অর্থনীতি, খোলা বাজার, কেরিয়ার সর্বস্ব জীবনে বই নিজের জায়গা খুঁজতে হঁাসফঁাস করছে। মাঝেমধ্যে আলোচনা সভা বসে বই না ই–‌বুক?‌ হাস্যকর। যেখানে পড়বার অভ্যেসই হু হু করে কমে যাচ্ছে, সেখানে কীভাবে পড়ব সেই আলোচনা হাস্যকর ছাড়া কী?‌ বাবা–‌মা, শিক্ষক–‌শিক্ষিকা, সিলেবাসের পণ্ডিতরা ছেলেমেয়েদের শেখাচ্ছে, এমন বই পড়ে সময় নষ্ট করবে না, যা তোমার সিলেবাসের বাইরে। যা কোনও না কোনও ভাবে তোমার উপার্জনে লাগবে না সে বই পড়তে হবে না। মুখে না বলতে পারলে, লেখাপড়ার বইতে ছেলেমেয়েদের ভারক্রান্ত করে দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে তাদের মনে লোভ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মনে রাখবে, বই পড়বার কারণ গাড়ি, বাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ। যেখানে চাকরি কর, তার কাজটুকু ঠিকমতো করে দেওয়া, যেখানে ব্যবসা কর সেখানে লাভটুকু গুনে নেওয়ার জন্য যেটুকু পড়তে হবে পড়বে। এর বাইরে বইয়ের কোনও উপকারিতা নেই। জ্ঞান, তৃপ্তি, মনের খিদে মেটানো— এসব পুরনো আমলের কথা। চারপাশে একটার পর একটা লাইব্রেরি সদস্যদের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছোটখাট বইমেলাগুলো নামেই ‘‌বইমেলা’। বিক্রিবাটা সামান্য।‌ প্রকাশকরা বই বিক্রি করতে গিয়ে দিশেহারা পড়ছেন। বইয়ের গুণগত মান মার খাচ্ছে। এখানে বই লিখে জীবিকা নির্বাহ করবার কথা একজন লেখক ভাবতেও পারেন না। সব দিক থেকেই ‘‌বই’‌ ধুঁকছে। তার মধ্যে দেবব্রত চ্যাটার্জির মতো মানুষরা হলেন দ্বীপের মতো। এরকম নেশা, ভালবাসা কোটিতে একজনেরও থাকে না। সবার এগিয়ে আসা উচিত। এই মানুষটাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা উচিত সবার সামনে। সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে তাঁর বইয়ের সম্ভার। দেবব্রত চ্যাটার্জির মতো মানুষরা পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর মানুষ। কারণ তাঁরা ‘‌বই মানুষ’‌। অভিনন্দন।

জনপ্রিয়

Back To Top