দশেরার উপহার। কেন্দ্রের পক্ষে বললেন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ ৫%‌ বাড়ানো হল। মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য, বাড়তি রোজগার নিয়ে কর্মীরা প্রচুর কিনবেন, চাহিদা বাড়বে, অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি হবে। একশো গুণেরও বেশি মানুষ আছেন সরকারি কাজের বাইরে, তাঁদের কী হবে?‌ উত্তর নেই। যাঁরা বাড়তি কিছু পেলেন, তাঁরাও ঝাঁপিয়ে পড়বেন বাজারে, অর্থনীতির হাল ফিরবে, সত্যি?‌ নাকি, পরিস্থিতি বুঝে সেই বাড়তি উপার্জন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে রেখে দেবেন?‌ মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা ভোট আসন্ন, কিছু ভোট বৃদ্ধির আশায় বিজেপি। বিরোধীরা হতমান, ছন্নছাড়া, তবু কেন এসব করতে হচ্ছে?‌ অর্থনীতির উন্নতির কথা বলছেন জাভড়েকর। অবস্থা যে কাহিল, তা বলেননি, কেউ বলছেন না। অর্থনীতির সঙ্কটের কথাই তো ওঁরা মানছেন না। জিতেছেন, সুতরাং সব ঠিক হ্যয়। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন, তরুণ প্রজন্ম অ্যাপ ক্যাব পছন্দ করে, তাই গাড়ি কেনে না, তাই গাড়ির বাজারে চাহিদার ‘‌সাময়িক’‌ টান!‌ অ্যাপ ক্যাব তাহলে লাগার কথা অনেক বেশি, গাড়ি বিক্রি থামার কথা নয়। অর্থনীতির যাবতীয় সূচকেই করুণ হাল। মানছেন না। শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ারের মতে, কাজ আছে, ভাল লোকের অভাব!‌ ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি ‘‌দেওয়া’‌ হল বড় কর্পোরেট সংস্থাকে, কার্যত উপহার হিসেবে। চাহিদা বাড়ল না, উৎপাদন বাড়ল না, বেকারি কমল না। কেন্দ্রের তীরের মুখে এখন প্রবীণরা। কয়েক মাসে সাতবার কমল সুদের হার। তাতে শিল্পোদ্যোগ বাড়ল না। কমল এফডি–‌নির্ভর মধ্যবিত্ত প্রবীণদের সামান্য আয়টুকুও। ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রবীণদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দাও, দেশ বাঁচবে!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top