সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে আর এস লোধা বলেছিলেন, সিবিআই হল ‘‌খাঁচাবন্দি‌ তোতা’‌। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছামতো চালায়, নিজেদের স্বার্থে খাঁচায় বন্দি করে রাখে, শুধু শেখানো বুলি আউড়ে যায়। নিজেদের গন্ডগোল ঢাকতে সিবিআই–‌কে বশে রাখার অভিযোগ পুরনো। এখন বোধহয় তোতার চেয়ে মারাত্মক কিছুর কথা বলার সময় এসেছে। চিদম্বরম নির্দোষ, সে কথা আমরা বলতে পারি না। মামলা চলবে, বোঝা যাবে। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী নলিনী চিদম্বরম একেবারে প্রথম সারির আইনজীবী। প্রচুর আয় করেছেন। পুত্র কার্তি হয়তো কীর্তিমান, তবে তাঁর ব্যবসার ব্যাপারটা নিয়ে নানা অভিযোগ বারবার শোনা গেছে। বলা হল, পি চিদম্বরম কি দোষী?‌ তিনি কি সত্যিই আইএনএক্স মামলায় জড়িত?‌ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেনিয়ম চাপা রেখে দিয়েছিলেন?‌ গত পাঁচ বছর তো তিনি ও তাঁর দল ক্ষমতায় নেই। পরাক্রান্ত মোদি সরকার। সেই পাঁচ বছরে চিদম্বরমকে গ্রেপ্তার করার ধারেকাছে যায়নি কেন বিজেপি সরকার?‌ এমন নয় যে, মোদির বিরুদ্ধে নীরব থাকার বিনিময়ে ছাড় পেয়েছেন। আগাগোড়াই তীক্ষ্ণ বিরোধিতা করেছেন। কংগ্রেসের হয়ে অসংখ্য সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রকে বিদ্ধ করেছেন। অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেছেন, যে–‌আইনের বলে চিদম্বরমকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেই আইনটাই তখন ছিল না, যখন অপরাধ ঘটেছে বলা হচ্ছে। বড় কথা, সিবিআই মামলা করছে শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে। মায়াবতী গোপন বন্ধু, তা–‌ই ছাড়। ব্যাপম মধ্যপ্রদেশের তো বটেই, ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি। শিবরাজ সিং চৌহান অক্ষত। মহারাষ্ট্রের পঙ্কজা মুন্ডে বিপুল সরকারি অর্থ নয়ছয়ের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত, তবু অক্ষত। হিমন্ত বিশ্বকর্মা চিটফান্ড কাণ্ডে সরাসরি অভিযুক্ত, বিজেপি–‌তে যাওয়ায় অক্ষত। তোতাপাখি নয়, কোনও হিংস্র প্রাণীই বলা উচিত সিবিআই–‌কে।

জনপ্রিয়

Back To Top