বালাকোটে রহস্যময় এয়ার স্ট্রাইক–‌এর সকাল থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমনভাবে কথা বলছেন, যেন তিনিই ককপিটে ছিলেন, তিনিই বায়ুসেনা–‌অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেন তিনিই অভিনন্দনকে ছাড়িয়ে এনেছেন, যেন অভাগা দেশের তিনিই এক ও একমাত্র ত্রাতা। ১৯৭১–‌৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধী পাক সেনাকে ঢাকায় আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলেন, বাগাড়ম্বর করেননি। যুদ্ধের জিগির জিইয়ে রেখে ভোটের ফল কুড়োতে যাননি। কার্গিল যুদ্ধের সময়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীও রণহুঙ্কার দেননি। মোদির প্রধান সহযোগী অমিত শাহর ছাতির মাপও যেন ৫৬ ইঞ্চি, সরকারের অংশ না হয়েও বালাকোটে মৃত্যুসংখ্যার ‘‌গোপন তথ্য’‌ বলে দিচ্ছেন। গোল গোল চোখে ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন। রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি কে সিং। নিজের বয়স কমিয়ে যিনি বাড়তি এক বছর সেনাপ্রধান থাকতে চেয়ে আদালতে থাপ্পড় খেয়েছিলেন। মন্ত্রী বলছেন, যারা যুদ্ধবিরোধী কথা বলছে, যারা বালাকোটে প্রাণহানির সংখ্যা জানতে চাইছে, তাদের পরবর্তী হানার সময়ে বিমানের সঙ্গে বেঁধে পাকিস্তানে ফেলে আসা হবে। গুনুক ওখানে গিয়ে, সংখ্যাটা কত। সাংসদ তথা দিল্লি বিজেপি–‌র সভাপতি মনোজ তিওয়ারি গায়ে চড়ালেন সেনা–‌পোশাক। রাস্তায় নেমে যেন সেনা–‌কর্তা হিসেবেই সাম্প্রদায়িক প্রচার করে গেলেন। সমালোচনা হওয়ায় যা বললেন, ভাবা যায় না। ‘‌এই পোশাক বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, আমি পরে চরম গর্বিত।’‌ শচীন তেন্ডুলকার ও মহেন্দ্র সিং ধোনি সেনার সাম্মানিক অফিসার। জনজীবনে ওঁরা কি সেই পোশাক পরে ঘুরে বেড়ান?‌ যাবতীয় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বিজেপি নেতারা। আহা, ভোট!‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top