যা–‌ই করুন, তা যতই নিন্দনীয় হোক, বিজেপি নেতারা ঐতিহ্যের দোহাই দেন। পরম্পরার কথা বলেন। আচ্ছা, রাজ্য সভাপতি যে প্রতিনিয়ত কুকথা বলেন, তা–‌ও কি সনাতন ভারতের ঐতিহ্য?‌ রামনবমী নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে গত বছর থেকে। একতরফা মিছিল ইত্যাদি করতে দিলে সাম্প্রদায়িক আবহ তৈরির সুযোগ পেয়ে যাবে বিজেপি, চায়নি তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলও কিছু মিছিল সংগঠিত করল। দুই পক্ষের সঙ্ঘর্ষের জন্য কিন্তু অশান্তি হয়নি। পুরুলিয়ায় হিন্দু সংগঠনের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন এক মুসলিম, তার পরিণতি কী হয়েছে, সবাই জেনে শিহরিত হয়েছেন। পুলিস কর্তাকে বোমা ছুঁড়ে গুরুতর আহত করে দেওয়াও কি ভারতের ঐতিহ্য?‌ সনাতন ভারতের ঐতিহ্য হল গুন্ডামি?‌ সবই হচ্ছে শ্রীরামচন্দ্রের নামে। এই পৌরাণিক নায়ক সম্পর্কে আমরা সকলেই অবহিত। রাম চরিত্রে যে–স্নিগ্ধতা রামায়ণে চিত্রিত, তার কোনও ছাপ আছে সঙ্ঘ পরিবারের আক্রমণাত্মক প্রচারে ও কর্মসংস্কৃতিতে?‌ রামায়ণের নায়কের বানরসেনা ছিল। বালকসেনা ছিল বলে তো উল্লেখ নেই। তাহলে বিজেপি–‌র রামনবমী মিছিলে নাবালকদের অস্ত্র ধরিয়ে নামিয়ে দেওয়া হল কেন?‌ এই নাবালকদের অভিভাবকদের সম্ভবত অনুমোদন আছে। রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছাড়া আর কী?‌‌ শ্রীরামচন্দ্রের হাতে তীর–‌ধনুকই অস্ত্র, যা যখন–‌তখন ব্যবহৃত হয়নি। প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠা বাল্মীকির রামায়ণে। অস্ত্রের ঝনঝনানি রাম–‌চরিত্রের বিশেষত্ব নয়। স্বয়ং বিজেপি রাজ্য সভাপতি মিছিলে গদা ও তরোয়াল ধরলেন, এক দফা লাঠিখেলাও দেখা গেল। একটি মিছিলে পিস্তল!‌ পিস্তলও কি সনাতন ভারতের পরিচিত অস্ত্র?‌ কে জানে, বলা হতে পারে, হাজার হাজার বছর আগে ভারতে পিস্তলের আবিষ্কার হয়েছিল!‌ শেষ কথা, বাংলার একটা ঐতিহ্য আছে। এখানে সহজিয়া ধর্মাচরণের সূত্রে হিন্দু–‌মুসলমান একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চান। এই ঐতিহ্যকে আমরা চুরমার হতে দিতে পারি না।

জনপ্রিয়

Back To Top