রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিপুল গর্জালেন, বর্ষালেন না বিন্দুমাত্র। রাজভবনে আসার পর থেকে অবিরাম আক্রমণ করে গেছেন রাজ্য সরকারকে। ভুল তথ্য, একপেশে কথা, কেন্দ্রের চমৎকার প্রতিনিধি। যত টুইট করেছেন, বই করলে পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫০০ ছাড়াত। নজিরবিহীনভাবে ইন্টারভিউ দিয়েছেন রাজভবনে বসে। রাজনৈতিক বক্তব্য, রাজ্যের বিরুদ্ধে কটু কথা। এমন রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকতে পারে না। বাজেট অধিবেশন শুরু হয় রাজ্যপালের ভাষণ দিয়ে। সবাই জানে, সরকারের লেখা ভাষণই পড়তে হয়। তবু, রাজ্যপাল বললেন, নিজের কথাও জুড়বেন, ‘‌ইতিহাস’‌ রচনা করবেন। তেমন কিছু হয়নি। সম্ভবত পরামর্শ পেয়েছেন নানা দিক থেকে, এরকম করা যায় না। ভাষণ শেষ হতেই নেমে পড়লেন বিরোধী নেতারা। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বললেন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা নেই। বোঝাপড়া!‌ বাম সংসদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী বললেন, একটা কথা নেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। গড়াপেটা। কী হয়েছে?‌ রাজ্যপাল বাজেটের মূল বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন। পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি এবং অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলে এসেছেন, এটা করা যায় না। কেন্দ্রীয় বাজেট রাষ্ট্রপতিকে আগে দেখানো হয় না, রাজ্যের বাজেট আগে রাজ্যপালকে দেখানো হয় না। ভাষণের একটা লাইনও পাল্টানো হবে না, জানিয়ে দেয় রাজ্য। ‘‌রাজ্যপালের ভাষণ’‌ কি শুনেছেন বিরোধী নেতারা?‌ নিশ্চিতভাবে বলে তো দিলেন, কিছু শুনেছেন?‌ প্রথমত, নোটবন্দি এবং আধসেদ্ধ জিএসটি কতটা ক্ষতি করেছে দেশের, বলা হয়েছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা নয়?‌ দ্বিতীয়ত, স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংবিধান প্রণেতারা যে বৈচিত্রময় ভারতের কথা বলেছিলেন, যেভাবে বহুত্বের কথা বলেছিলেন, তার উল্টো দিকে গিয়ে দেশের সর্বনাশ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নয়?‌ ভাষণে আছে, ক্যা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়, গ্রহণযোগ্য নয়। এনআরসি কিছুতেই করা হবে না রাজ্যে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নয়?‌ বলতে ট্যাক্স লাগে না বলে যা খুশি বলে দেবেন বিরোধী নেতারা?‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top