সব ব্যাটাকে ছেড়ে বেঁড়ে ব্যাটাকে ধর!‌ দেশের সব থেকে বড় ব্যাঙ্ক প্রতারণার দায় নাকি শুধু কুঁচো কর্মচারীদেরই। কেউ কেউ তো প্রধানমন্ত্রী আর অর্থমন্ত্রীর প্রশ্রয় পেয়ে সরকারি ব্যাঙ্ক বেচে দেওয়ার পরামর্শও দিতে শুরু করেছেন। এই কর্মীরাই নোট বাতিলের পর দিনরাত জেগে বিপুল ঝড়ঝাপটা সামলে নিয়েছেন, কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কিন্তু কেউ খোঁজ নেননি। লক্ষ লক্ষ জনধন আমানত খোলার ঝক্কি তাঁরাই মুখ বুজে সামলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিমা যোজনা, মনরেগার টাকাপয়সা তাঁরা নীরবে দেখাশোনা করছেন। ২০১২ সালের পর থেকে মাইনে বাড়েনি, বেড়েছে কাজের চাপ, লক্ষ্যপূরণের চোখরাঙানি আর মানসিক অবসাদ। কর্মী সঙ্কোচন চলছে, কমে যাচ্ছে ব্যাঙ্কের শাখা, ভারত হয়ে উঠেছে ডিজিটাল ইন্ডিয়া। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর অপ্রতুল পরিকাঠামো। এমবিপিএস দূরস্থান, ধীরগতির কেবিপিএস ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে লক্ষ লক্ষ আমানত সামলাতে হয় ওঁদের। মানুষের পকেট কাটার নানা ফিকির বের করাই এখন সরকারি ব্যাঙ্কের বড়কর্তাদের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর শুরু হয়েছে ক্রশ সেলিং। ব্যাঙ্কের কর্মীদের দিয়ে বিমা বিক্রির খেলা। জনা তিনেক বড় কর্তাকে কমিশনের টোপ দিয়ে সাধারণ কর্মীদের বিমার এজেন্ট করে তোলা হয়েছে। সরকারের খরচে বিদেশি কোম্পানি মুনাফা করে যাচ্ছে, দেখেও সকলে নীরব। ব্যাঙ্কের কাজ টাকা‌পয়সার লেনদেন, বিমা বিক্রি নয়। আশ্চর্যের ব্যাপার, কৃষকদের ঋণের টাকা আমানতে জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমাবাবদ টাকা কাটা পড়ে যাচ্ছে, কাউকে না জানিয়েই। আমেরিকার কুখ্যাত ওয়েলস ফার্গো ব্যাঙ্কের মডেল সুচিন্তিত ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হল আমাদের সরকারি ব্যাঙ্কের ঘাড়ে। অনুৎপাদক সম্পদের পাশাপাশি সম্পদ তৈরি হচ্ছে বিদেশি কোম্পানির। ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম তলানিতে, সস্তায় কিনে নেওয়া যাবে, তারপর টাকা লুঠে দেউলিয়া বলে চলে গেলেও, ফেরত দেওয়ার দায় থাকবে না!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top