এটিএমে পর পর প্রতারণা হচ্ছে। নকল এটিএম কার্ড তৈরি করে দু্ষ্কৃতীরা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। ইতিমধ্যেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বহু গ্রাহক জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিদেশিরাও ধরা পড়েছে। ব্যাঙ্কে জালিয়াতি এই প্রথম নয়। এর আগে টেলিফোনে এটিএম কার্ডের নম্বর আদায় করে টাকা গায়েব করা হয়েছে বহু। এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্তা সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন কীভাবে এটিএম জালিয়াতি রুখতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এটিএম মেশিনে আলাদা ‘‌ডিভাইস’‌ লাগানো হচ্ছে। ভাল কথা। আমরা আশা করব এতে জালিয়াতি বন্ধ হবে। তবে গ্রাহকদেরও কিছু কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবটা কতখানি বাস্তবোচিত বোঝা যাচ্ছে না। বলা হয়েছে, ঘন ঘন পিন নম্বর বদলাতে হবে। লুকোনো কোনও ক্যামেরা যাতে কাজ করতে না পারে তার জন্য হাত দিয়ে আড়াল করে পিন ও নম্বর ব্যবহার করতে হবে। এসব কী করে সম্ভব? বয়স্ক মানুষরা পারবেন?‌ বারবার পিন নম্বর বদল করা‌ কারও পক্ষে সম্ভব? এসব হল উদ্ভট পরামর্শ।‌ এটিএমের সুরক্ষা রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ব্যাঙ্কের। অর্থাৎ সরকারের। গ্রাহকদের ঘাড়ে দায়‌দায়িত্ব চাপালে হবে না। কিছুদিন আগে নোট বাতিল করে ব্যাঙ্কের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দঁাড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল গ্রাহকদের। অবর্ণনীয় কষ্ট অনেকেই ভুলতে পারেনি। কই, সেদিন তো গ্রাহকদের কোনও কথা শোনা হয়নি। লাইনে দঁাড় করিয়ে রাখবার ক্ষমতা যার, সাধারণের মানুষের টাকা সুরক্ষিত রাখবার দায়িত্বও তার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্ত্রীয় সরকারের সব মন্ত্রী একদিন নোটের বদলে কার্ডের হয়ে প্রচার করেছিলেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার জন্য যাঁরা চিৎকার করেছিলেন, ডিজিটাল জালিয়াতি দেখে তাঁরা চুপ কেন?‌ তা হবে না। ব্যাঙ্ক বিষয়ক যে কোনও ধরনের গোলমালের কৈফিয়ত দিতে হবে সরকারকে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top