ভারতীয় সাংবাদিকতায় বিশেষ নাম অরুণ শৌরি। বিশেষত্বর জায়গাটা আগে বলা দরকার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক থাকার সময়েও গোটা কাগজ নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করতেন না। কাগজের কোন পাতায় কী যাবে, যোগ্য সহকর্মীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সব মনোযোগ ছিল সম্পাদকীয় নীতিতে, প্রথম ও বিশেষ পাতায়। একটা সংবাদপত্র কোনও ইস্যুতে কত লড়াকু হতে পারে, দেখিয়েদিয়ে ছিলেন তিনি। মেধাবী ছাত্র, আজীবন গভীর পড়ুয়া। তথ্য ও যুক্তির সমাবেশে লিখতেন বিধ্বংসী ভঙ্গিতে। তথ্য ও যুক্তির মতো ভাষার জোর। সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ, কিন্তু রামমন্দিরের মতো ইস্যুতে মদত দেননি। বোফর্স মামলা নিয়ে অবশ্যই ভাল কাজ করেছিলেন এন রাম ও চিত্রা সুব্রহ্মণ্যম, কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিলেন শৌরি। দিনের পর দিন লিখে গেছেন। একটা লেখাও দুর্বল নয়। ধারাবাহিক বিস্ফোরণ। সেই অরুণ শৌরিই সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, রাফাল অনেক বড় কেলেঙ্কারি। বলেই কর্তব্য শেষ মনে করলেন না। তিনি নিজেও আইনে পোক্ত, তবু এবার সঙ্গী আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। সিবিআই অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করলেন ওঁরা। বিস্তারিত তথ্য হাতে তুলে দিলেন। সওয়াল করছেন প্রশান্তভূষণ, কিন্তু আদালতে নিয়মিত যাচ্ছেন তিনিও। বয়স আশি পেরিয়েছে কবে, তবু ক্লান্তিহীন। বিজেপি বিপাকে পড়েছে। অরুণ শৌরি সুবিধাবাদী, তিনি নিজের স্বার্থে কিছু করছেন, মোদিরাও বলতে পারছেন না। ১৯৯৯ সালে যখন তাঁকে মন্ত্রী করেন বাজপেয়ী, প্রথমে শৌরি সম্মত ছিলেন না। আদবানির উদ্যোগে রাজি হন। উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের মন্ত্রী হিসেবে স্থায়ী ভাল কাজ করে গেছেন। উত্তর–‌পূর্বের মন্ত্রীরা বলতেন, আগে এমনটা আর কেউ করেননি। পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য ছাড়া একটা লেখাও লেখেননি, একটা কথাও বলেননি কখনও। তাঁকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় আছে?‌ অরুণ শৌরি বেঁচে থাকুন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top