তিনি শক্তিমান। দেশের শাসক দলের সভাপতি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতম সঙ্গী। জেটলি নন, অন্য কেউ নন, সর্বার্থে নাম্বার টু অমিত শাহ। মনে রাখা ভাল, ইনিই গুজরাট–গণহত্যার সময়ে ছিলেন গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, মোদির নাম্বার টু। এতটাও বিজেপি–‌র ভেতরে শোনা যাচ্ছে যে, ২০১৯ সালে কোনওরকমে ক্ষমতায় এলে রাজনাথ সিংকে সরিয়ে তিনিই হবেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই শক্তিমান নেতা রাজ্যসভায় তাঁর প্রথম বক্তৃতায় নজর কাড়লেন। ঘনঘন টেবিল বাজালেন বিজেপি সদস্যরা, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। তাঁর দুটি কথা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। এক, বেকার সমস্যা খুবই চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। দেশে এত তরুণ কাজের আশায় দিন গুনছেন, অধৈর্যও হয়ে পড়ছেন, সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। বিরোধীরা পরে মনে করিয়ে দিলেন, ২০১৪ সালে প্রায় প্রত্যেক জনসভায় নরেন্দ্র মোদি প্রতি বছর কয়েক কোটি চাকরির ব্যবস্থা করবেন বলেছিলেন। কয়েক লক্ষের হিসেব দিতেই সরকারি কর্তারা গলদঘর্ম হচ্ছেন। বিজেপি সভাপতি নিজেই মানছেন, বেকার সমস্যা কমেনি। তাহলে প্রশ্ন, বিদেশে গচ্ছিত কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে দেশের সব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার মোদি–‌প্রতিশ্রুতির মতো, এক্ষেত্রেও, চাকরি তৈরি করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ সরকার। বলা যায়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট জোগাড় করেছিলেন। অমিত শাহর দ্বিতীয় কথাও উল্লেখযোগ্য। বিরোধীদের উদ্দেশে বললেন, দেশের বহু সমস্যাই দীর্ঘদিনের। রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। আজ আমরা ক্ষমতায় আছি, কাল আপনারা আসতে পারেন। দয়া করে যুক্তিহীন সমালোচনা করবেন না। উল্লসিত বিরোধীরা বলছেন, যাক, স্বয়ং বিজেপি সভাপতিই বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে পালাবদল হতেই পারে। সভাপতি হিসেবে দলের বৈঠকে বেকার সমস্যার সমাধান করতে না–‌পারা নিয়ে বা ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা নিয়ে বলাই যায়। অমিত শাহ বললেন সংসদে। বিরোধীদের প্রার্থনা, আপনি বলুন, আরও বলুন!

জনপ্রিয়

Back To Top