নামটা ভাল। আকাশ। তরুণ বিধায়ক। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর কেন্দ্রের। বেআইনি বাড়ি ভাঙতে গিয়েছিল পুরসভার দল। পুরসভায় বিজেপি ক্ষমতায়। আকাশও বিজেপি–‌রই। বাধা দেন। বলা হয়, কর্তাদের ফোন করুন স্যর, নির্দেশ পেলেই ফিরে যাব আমরা। বিধায়ক জবাবে কুকথা বললেন। কত সাহস, তাঁর বাধা সত্ত্বেও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে চাইছেন, ঝাঁপিয়ে পড়লেন আকাশ। সংশ্লিষ্ট পুর অফিসারকে ব্যাট নিয়ে আঘাত। বিধায়কের ভাষায় ‘‌আগে নিবেদন, তারপর দনাদন!‌’‌ থানায় অভিযোগ, গ্রেপ্তার হলেন বিধায়ক। কয়েক দিন পর, যা হয়, জামিন। যেদিন বেরোলেন, হাজির উপযুক্ত অনুগামীরা। তাঁরা আবির ছড়ালেন, বাজি ফাটালেন, শূন্যে গুলি ছুঁড়লেন। বিপুলাকার মালা গলায় হাস্যমুখ নেতা। তরুণ বিধায়ক বললেন, ‘‌এরকম পরিস্থিতি এলে ফের পেটাব।’ আকাশ সম্পর্কে আরও কিছু জানা গেল। যথা, দেবস্থান ঘুরে ঘুরে বই লিখেছেন। এবং তিনি পারিবারিক সূত্রে ‘‌বড়’‌। পিতার নাম কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিজেপি–‌র সাধারণ সম্পাদক, বাংলায় দলের পর্যবেক্ষক। ২৫ বছরের পুরনো ছবি পাওয়া গেল। আইএএস অফিসারকে জুতোপেটা করেছিলেন। সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। বললেন, ‘‌বিদেশে ছিলাম, এমন ঘটনায় দেশের মাথা হেঁট হয়ে যায়। একটা বিধায়ককে বাদ দিলে ক্ষতি নেই। কঠোর হতে হবে, যিনি যাঁরই ছেলে হোন না কেন।’‌ ব্যবস্থা?‌ লোকসভা ভোটের প্রচারে সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, নাথুরাম গডসে জাতীয় নায়ক। গান্ধীর হত্যাকারীকে ‘‌জাতীয় নায়ক’‌ বলায় নরেন্দ্র মোদি ক্ষুব্ধ। বলেন, ‘‌ওঁর মুখ দেখতে চাই না।’‌ মুখ দেখছেন। লোকসভায় দেখছেন। কোনও ব্যবস্থা?‌ না। আকাশ বিজয়বর্গীয় বোধহয় নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

জনপ্রিয়

Back To Top