বালাকোটে পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ চেয়ে বিরোধীরা ‘‌শত্রু দেশের’‌ সুবিধে করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ নরেন্দ্র মোদির। বাক্যবাগীশ প্রধানমন্ত্রীর অতি বাগাড়ম্বর এবার ব্যুমেরাং হয়ে গেল। বাংলা প্রবাদ বলে, চোরের মন বেঁাচকার দিকে। সম্প্রতি একটি পত্রিকাগোষ্ঠীর সম্মেলনে রাফাল নিয়ে হা–হুতাশ করতে গিয়ে মোদি কার্যত পাকিস্তানের বিমানশক্তিকে ভারতের থেকে উঁচুদরের বলে ফেলেছেন, সেই মন্তব্য লুফে নিয়ে ফলাও করে খবর করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম। রাফাল হাতে থাকলে ছবিটা নাকি অন্যরকম হত!‌ আমাদের প্রশ্ন, ফরাসি যুদ্ধবিমান হাতে পেতে দেরি হল কার জন্য?‌ ১২৬টি বিমানের বদলে ৩৬টি পেয়ে বেশি লাভ হল, এই সরল অঙ্কটি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েই এত যুদ্ধ–‌আয়োজন কিনা, এমন সন্দেহও গাঢ়তর হচ্ছে বইকি। ভীত, ভীত এবং ভীত। প্রধান সেবক এখন প্রধান সেনাপতি সেজেছেন, সবই নাকি তঁারই বীরত্ব। বীর হলে মাত্র দুটি উপগ্রহচিত্র পেশ করলেই হয়, একটি বালাকোটে বিমান হামলার আগে, অন্যটি ঠিক তার পরে। সেটা তিনি করবেন না, কারণ তিনি রাজনীতি করবেন, বলবেন শুধু তিনি, আর কেউ না!‌ ওটো ফন বিসমার্ক বলেছিলেন, ‘‌মানুষ সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে শিকারের পরে, যুদ্ধচলাকালীন আর নির্বাচনের আগে।’‌ ইনি নির্মম এবং সংবেদনহীন। পুলওয়ামা–‌কাণ্ডের পর শ্যুটিং করতে পারেন, পরের দিনই দ্রুতগামী ট্রেনের উদ্বোধন করতে পারেন, নির্বাচনী সভায় অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে পারেন, বস্তুত তিনি যা খুশি তা‌–‌ই করতে পারেন, কিন্তু প্রশ্ন তুললেই রে–‌রে করে দেশদ্রোহী তকমা দিতে ঝঁাপিয়ে পড়বে ভক্তবাহিনী। মানুষ সব দেখছেন। ডিসলেক্সিয়ার সঙ্গে বিরোধী নেতাকে জড়িয়ে যে নীচুমানের রসিকতাটা তিনি লোকসমক্ষে করেছেন, তাতে মানুষ হিসেবে তঁাকে আরও হ্রস্ব মনে হয়েছে। নিজের উচ্চতা বাড়াতে গিয়ে খাটো হচ্ছেন বারংবার।‌

জনপ্রিয়

Back To Top