‌২০১৮ সালে যেদিন মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ে, দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সেদিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলে দেন, ২ বছরের মধ্যে নতুন চেহারায় ফিরিয়ে দেব, মানুষের অসুবিধা থাকবে না। গত দেড় মাস ধরে ছবি দেখছিলাম, প্রায় তৈরি, ঝকঝকে তকতকে, চলছে ট্রায়াল রান। যতটা ভার নেওয়া যাবে, তার চেয়ে বেশি লরি যাতে না ওঠে, যান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রস্তুতিও চলছে। পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, ডিসেম্বরেই আবার চালু হবে সেতু। ২৬ নভেম্বর কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখাতে গেল বিজেপি। দাবি, অবিলম্বে সেতু চালু করতেই হবে। ২৬ নভেম্বরই ছিল কংগ্রেস–‌বাম সংগঠিত ধর্মঘট। প্রধানত ব্যর্থ, কিন্তু ইতস্তত গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা তো হবেই, হয়েছেও। সতর্ক থাকতে হয়েছে পুলিশকে। সেই দিনই উটকো ইস্যুতে বিজেপি–‌র বিক্ষোভ কি কাকতালীয়?‌ ধর্মঘট কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে, কেন্দ্রীয় সরকারের দলেরই অশান্তি বাধানোর চেষ্টা কলকাতার মাঝেরহাটে। ঠান্ডা মাথায় সামলানো হয়েছে। কৈলাসজি পুলিশ ভ্যানে উঠে বলতে থাকেন, আমি গ্রেপ্তার!‌ পুলিশ কর্তারা অবশ্য আবদারে সাড়া দেননি। ঠান্ডা মাথায় নামিয়ে দিয়েছেন। নেতাও নিরাপদে বিলাসবহুল আস্তানায় ফিরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, ‘‌পিকচার দিখানা পড়েগা!‌’‌ বাস্তবটা জানা দরকার। সেতুর একটা অংশ গেছে রেললাইনের ওপর দিয়ে, যেমন ছিল। রেল নিয়েছে ১০ কোটি টাকা রাজ্যের কাছ থেকে। তবু, ১১ মাস ঝুলে ছিল অনুমোদন। কাজ করা যায়নি। কার্যত ২ বছরের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ সমাপ্ত। এবার চালু হবে। দেরির জন্য বরং লজ্জিত হওয়া উচিত কেন্দ্রের। তার বদলে বিক্ষোভ!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top