নরেন্দ্র মোদির ‘‌কীর্তি’‌ নিয়ে দেশ জুড়ে বিরোধী নেতারা নিরন্তর প্রচার করছেন। প্রধানমন্ত্রী যতই বালাকোট দিয়ে সব ইস্যু এড়িয়ে যেতে চান, ইস্যুগুলো সামনে এসেই যাচ্ছে। নোটবন্দি, জিএসটি, কর্মসংস্থান, কৃষক দুর্গতি, রাফাল— কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছেন না। নীরবতা আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এনডিএ শরিকরাও বলছে, এবার বিজেপি একার জোরে গরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার হবে, কিন্তু একনায়ক থাকতে পারবেন না নরেন্দ্র মোদি। সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলে গেলেন, ২০১৯ ভোটেও ২৮২ পাবেই বিজেপি, এনডিএ ৩৫০। যা–‌ই হোক, একটা হিসেব তো দিলেন বিজেপি সভাপতি!‌ দেশের বিরোধী নেতারা বলছেন, মোদির বিদায় অনিবার্য, বিজেপি হারছে, কিন্তু সংখ্যার ধারকাছ দিয়ে কেউ যাচ্ছেন না। ব্যতিক্রম মমতা ব্যানার্জি। বিজেপি–‌র পরাজয়যোগ্যতা নিয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করা তো দরকার। সভার পর সভায় মমতা তা করছেন। এবং হাস্যকর কোনও হিসেব নয়। বলে দিচ্ছেন, রাজ্য ধরে হিসেব দিচ্ছেন, বিজেপি কোনওভাবেই ১৬০–‌এর বেশি পাবে না। বাংলায় অমিত শাহর ২৩–‌এর হুঙ্কার হাস্যকর, মানুষ জানেন। দলের কাছে ৪২ টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফল যে সেই হিসেবের কাছাকাছিই থাকবে, তিনি নিশ্চিত। বলছেন, দক্ষিণ ভারতে কিছু পাবে না মোদি–‌শাহের দল। কেরলে, অন্ধ্রে, তেলেঙ্গানায়, তামিলনাড়ুতে খাতা খোলা মুশকিল। কর্ণাটকে জোট বেশি পাবে, কমবেই বিজেপি। গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র— যে সব রাজ্যে বিপুল সাফল্য পেয়েছিল গত নির্বাচনে, এবার কমতে বাধ্য। তাহলে ১৬০–‌এর বেশি আসন আসবে কোথা থেকে?‌ মমতা, একমাত্র মমতাই একটা বিশ্বাসযোগ্য হিসেব দিচ্ছেন। দরকার ছিল।‌‌‌

ছবি: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

জনপ্রিয়

Back To Top