ছিলেন বোলপুরের সাংসদ। উল্টোপাল্টা ফেসবুক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, অনুপম হাজরাকে দল থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। বিজেপি–‌তে তিনি। বোলপুরে প্রার্থী?‌ না। যাদবপুরে। সেই তিনি, ভোট দিতে গিয়েছিলেন বোলপুরে এবং হাজির অনুব্রত মণ্ডলের দপ্তরে। প্রণাম, মধ্যাহ্নভোজ, ছবি। অনুব্রত বললেন, ‘‌ভুল করে ফেলেছে, দেখি, রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য দিদিকে বলতে পারি।’‌ বিজেপি নেতাদের মাথায় হাত।‌ বকুনি খেয়ে অনুপম পরদিন বললেন, ‘‌সৌজন্য নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে। ছবি তোলার জন্য মিডিয়ার ক্যামেরা হাজির, জানতাম না। খেয়েছি বলতে মন্দিরের ভোগ। বললে তো না বলা যায় না। কাকুর (‌অনুব্রত)‌ মা, জেঠিমা সদ্য মারা গিয়েছেন। ছোটবেলা থেকে চিনি। শোক জানাতে কাকুর বাড়িতেই যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কাকু বললেন পার্টি অফিসে যেতে। গেলাম। অসৌজন্যের রাজনীতির শিকার হলাম।’‌ চমৎকার বিবৃতি, নেতার বুদ্ধি ও পরামর্শে। বোলপুরে, বীরভূমে সেদিন ভোট হচ্ছিল। অনুব্রত জেলা অফিসে থাকবেন, জানা কথা। এবং, একান্তে শোক প্রকাশ করবেন ‘‌ভাইপো’‌, উপায় ছিল?‌ মিডিয়া ক্যামেরা–‌সহ হাজির, সেটা নাকি বোঝেননি বিজেপি প্রার্থী। ভোটের দিন অনুব্রত যেখানে, মিডিয়া সেখানে, এ তো নতুন কিছু নয়। বুঝতে পারলেন না?‌ ছবি তোলা হয়েছে চারটে। প্রণাম থেকে খাওয়া, হাসিমুখে পোজ দিলেন অনুপম, সবটাই তাঁর অমতে?‌ এক মিনিট কথা বলে চলে গেলেন না কেন?‌ ভোগ খেয়েছেন। মেনুতে আলু–‌পোস্ত। কোন মন্দিরের ভোগে থাকে?‌ সঙ্গে পারশে মাছের ঝোল, সেটাও পুজোর ভোগ?‌ যখন পাশে বসিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলছেন, ভুল করে ফেলেছে, রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য বলব, আপত্তি করলেন না কেন?‌ হাসিমুখেই তো দেখা গেল তাঁকে। বেশ। ভাল। যাদবপুরে কত ভোট পাবেন?‌  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top