বিজেপি নেতাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হবে দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে একটি আশ্রম চলছে এবং তাঁরা সর্বত্যাগী আশ্রমিক। আশ্রমের মতোই নৈমিত্তিক তাঁদের প্রবচনের আসর। প্রতিদিন নেহরু বা গান্ধী পরিবার কিংবা কংগ্রেসের বাপান্ত। শুনলে মনে হবে আপনি এক নিষ্কলুষ ভারতে বাস করছেন, দুর্নীতি–মোসাহেবি–স্বৈরতন্ত্র, সবই মনমোহন সিংয়ের সরকারের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্জলি যাত্রায় গিয়েছে। বাস্তব ঠিক তার উল্টো। ২জি কেলেঙ্কারিতে কয়েকজন নেতাকে জেলে পাঠিয়ে সিএজি নিজে শাঁসালো পদ পেয়েছেন, সিবিআই কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। তার ফল একটাই, দ্রুত বাড়তে থাকা টেলিকম শিল্প ধুঁকছে। প্রায় সব বিদেশি টেলি–কোম্পানি পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নিয়েছে। মোট রাজস্বের ওপর কর চাপাবার নীতি সেই বিদায় ত্বরান্বিত করেছে। সরকারবন্ধু কোম্পানির জন্য খোলা ময়দান। তাদের পথ কুসুমাস্তীর্ণ করে তুলতে কল আদান–প্রদানের খরচ মিনিটে ১৪ পয়সা থেকে নামিয়ে ৬ পয়সা করে দেওয়া হল। অর্থাৎ বিশাল খরচ করে যে কোম্পানিগুলি এলাকাভিত্তিক লাইসেন্স নিয়েছিল, তাদের আয় হঠাৎ কমে গেল!‌ বন্ধু–কৃত্যের নতুন ফিকির এবার কয়লা ব্লক নিলাম। সামনে গাজরের মতো ঝোলানো থাকছে আড়াই লক্ষ কর্মসংস্থান, ৩৩ হাজার কোটি বিদেশি লগ্নির কাহিনি। বাস্তবটা কী?‌ মাটির নীচে বিপুল সম্পদ লুণ্ঠনের চেষ্টা। ভারতের চাহিদা বছরে ৭২ কোটি টন, উন্নতমানের ২৪ কোটি টন কয়লা এখনও আমদানি করতে হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ চাহিদা বড়জোর ১৫০ কোটি টন দাঁড়াতে পারে। তবে ইতিমধ্যেই আমরা বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকেছি। তাহলে হঠাৎ ১৪,৮০০ কোটি টন কয়লার ভাণ্ডার বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে হবে কেন?‌ কেন পরিবেশের তোয়াক্কা না করে বনজঙ্গল কেটে সাফ করে দিতে হবে?‌ মহারাষ্ট্রের বাঘ অভয়ারণ্য তাড়োবা, মহাত্মা গান্ধীর ওয়ার্ধার কুটির, আচার্য বিনোবা ভাবের আনন্দবন মানচিত্র থেকে মুছে দিতে হবে কার স্বার্থে?‌ জবাব চাই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top