প্রবীণদের ভালর জন্য কিছু করে না বর্তমান কেন্দ্র সরকার। ভাল দূরের কথা, উল্টো করে, যাতে খারাপ হয়। প্রবীণরা যাতে তীব্রতর অসহায়তায় ডুবে থাকেন। ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত থেকে প্রাপ্ত সুদ মধ্যবিত্ত প্রবীণদের প্রধান আয়। সারা জীবন পরিশ্রম করে যতটুকু সঞ্চয়, ব্যাঙ্কে রেখে তার সুদে কষ্টেসৃষ্টে দিন কাটাতে হয়। সুদের হার কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে, আরও দুর্গতির পূর্বাভাস। বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম, চিকিৎসার খরচ, স্বাস্থ্যবিমার খরচ। পাশাপাশি কমে যাচ্ছে সুদ। কী করে চলবে?‌ উদ্দেশ্য কী?‌ স্থায়ী আমানতে সুদের হার কমলে, কম সুদে ঋণ দেওয়া যাবে শিল্পপতিদের। সেই শিল্পপতিদের, যাঁরা ঋণখেলাপের তালিকায় শীর্ষে। সুবিধা দিলে নাকি তাঁরা লগ্নি করবেন এবং তার ফলে কর্মসংস্থান হবে, চাহিদা বাড়বে, ইত্যাদি। গত পাঁচ বছরে চোদ্দবার কমেছে ফিক্সড ডিপোজিট–‌এ সুদের হার, লগ্নি বেড়েছে নাকি?‌ সরকারি ব্যয় না বাড়িয়ে, প্রবীণদের দুর্গতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। বিষ–‌বাজেট পেশ করার পর, শিল্পমহলকে বোঝাতে শহরে শহরে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শিল্পপতিরা বলে যাচ্ছেন, আমাদের জন্য তো কিছু করলেন না। নির্মলা বললেন, করেছি, করেছি, আরও বেশি করব। আপনারা নির্ভয়ে লগ্নি করুন। চিঁড়ে ভিজছে না। উঠল আয়কর প্রসঙ্গ। মধ্য–‌আয়ের কিছু মানুষের আয়কর কমানোর চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি, কর থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়ার জন্য সঞ্চয় ও বিমা প্রকল্পে কিছু টাকা রাখেন মানুষ। বলা হল, আয়করে নতুন ঘোষণায় যৎসামান্য সুবিধা নিতে গেলে, ছাড়ের জায়গা ছাড়তে হবে। যদি ফাঁদে পা দেন, কিছু বাড়তি টাকা হাতে পাওয়ার কথা ভাবেন, সাশ্রয় কমবে। কমেই চলবে। দুর্গত হওয়ার ডাক। নির্মলা বলে গেলেন, ‘‌সুদের হার নিয়ে ভাবার কী আছে?‌ স্থায়ী আমানতে, ডাকঘরে টাকা রাখতে হবে, তার কী মানে আছে?‌ মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারে টাকা দিন। বেশি আয়। এই প্রথম দেশের সরকার বলছে, শেয়ার বাজারে টাকা দিন। মৃত্যুর ডাক!‌

জনপ্রিয়

Back To Top