একদা কলকাতায় পকেটমারদের রমরমা ছিল। এমন কিছু গুণী ছিলেন পেশাতে, যাঁদের শিল্পী বলা যেত। তখন অধিকাংশ বাঙালির পোশাক ছিল ধুতি–‌পাঞ্জাবি। শার্ট–‌প্যান্টের চল হয়নি। পাঞ্জাবির দুটো পকেট। একটাতে রুমাল, আরেকটিতে মানিব্যাগ। পকেটমাররা কাঁচিকে প্রধান সহায়ক মনে করতেন। পকেট কাটা। কয়েকটা পকেট জুড়ে যত টাকা হয়, বাড়িতে বা ডেরাতে গিয়ে গুনতেন। কখনও হতাশ, খুচরো প্রধানত। কখনও খুশি, কিছু টাকা। মাসের প্রথমে অফিসবাবুদের মানিব্যাগে থাকত বেশ কিছু টাকা, সতর্ক থাকা সত্ত্বেও সবসময় পকেট বাঁচানো যেত না। যখন বুঝতেন যে, পকেট কাটা, মাথায় হাত। মাসটা কষ্টে কাটত। অনেক অফিসবাবুর পকেটে থাকত দামি কলম, সামান্য শৌখিনতা। পোস্টকার্ড বা সিগারেটের প্যাকেটের অংশ দিয়ে নিপুণভাবে তুলে নিতেন শিল্পী পকেটমার। দিন পাল্টাল। শার্ট–‌প্যান্ট। পকেট ঝুলে থাকে না। ‌নগদের বদলে কার্ড ইত্যাদি। মানিব্যাগ ভেতরের পকেটে এমনভাবে রাখা, পকেট–‌শিল্পীদের কাজ দুরূহ হয়ে গেল। ধারণা হচ্ছিল, এখন আর পেশা হিসেবে পকেটমারি গ্রহণযোগ্য নয়। উপার্জন কম। পোষায় না। বইমেলাতে জানা গেল, না। তেনারা আছেন। ৪০ জন পকেটমার ধৃত পুলিশের হাতে। জানা গেল, এখন বড় টার্গেট মোবাইল ফোন। যত দাম, তত লাভ। টাকাও আছে অবশ্য। বইমেলাতে কেন?‌ হতে পারে, বইপ্রেমীদের পকেটে থাকে বেশ কিছু টাকা, বই কেনার জন্য। শুধু কার্ডে বই কেনা, তেমন চালু হয়নি। হতে পারে, হাতে থাকে বইয়ের প্যাকেট, পকেট সামলানো সম্ভব হয় না। হতে পারে, বইপ্রেমীরা আনন্দে একটু উদাস থাকেন। কী বই কিনলেন, আর কী কিনলে ভাল হত, বইয়ের গন্ধ, উৎসব হয়তো অন্যমনস্ক করে দেয়। উৎসবে পকেটমারি থাকবে, ধরা যাক। পুজোর ভিড়ে হয় কি?‌ শোনা যায় না। জানা গেল, পেশাটা আছে। ভাগ্যিস বইমেলা এসেছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top