৬৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সুষমা স্বরাজ। অনেক পদে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৭৭ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জেতেন এবং মাত্র ২৫ বছর বয়সে হন হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী। কোনও অভিযোগ ছিল না বিরোধীদের। অভিজ্ঞতার অভাব পূরণ করতেন বুদ্ধি ও পরিশ্রম দিয়ে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন। তারপরই নির্বাচনে হেরে যায় দল, পেঁয়াজের দামের ভয়ঙ্কর ঝাঁজে। ২০০৯ সালে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছিলেন, আমরা যোগ্য বিরোধী নেতা পেয়েছি। ২০১৪ সালে বিদেশমন্ত্রী। শোকবার্তায় অনেকেই বলছেন, তাঁর বাগ্মিতার কথা। নিশ্চয় দুর্দান্ত বক্তা ছিলেন। কিন্তু, যেন সেটাই তাঁর প্রধান পরিচয়, তা যেন কেউ না ভাবেন। প্রধানমন্ত্রী প্রয়াণের রাতেই বলেন, আমরা এক অসাধারণ বাগ্মী ও সাংসদকে হারালাম। পরে জুড়েছেন একটা লাইন— মন্ত্রী হিসেবে ভাল কাজ করেছেন। আগেও বাজপেয়ী সরকারের তথ্য–‌সম্প্রচার মন্ত্রী ছিলেন এবং ভাল কাজ করেছেন। গত পাঁচ বছর বিদেশমন্ত্রী হিসেবে কতটা দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হল?‌ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে রাখা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীই যেন বিদেশমন্ত্রী। তাহলে কি বসে থাকবেন?‌ না। সুষমা জোর দিলেন অন্যদিকে। কত ভারতীয় বিদেশে আটকে পড়েন, বিপদে পড়েন। এমন ৯০ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছেন। পাকিস্তানের অধিবাসীদের চিকিৎসার জন্য ভারতে আসার ক্ষেত্রে বাধা সরিয়ে দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস তাঁকে বলেছিল ‘‌সুপার মম’। পাসপোর্ট নিয়ে কারও সমস্যা হলে সরাসরি তাঁকে জানালে ব্যবস্থা নিতেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও সুসম্পর্কের কথা বলেছেন মমতা ব্যানার্জি। সব দলের নেতারাই বলছেন। গুলাম নবি আজাদ বললেন, ‘‌বোনকে হারালাম।’ বোন। সুপার মম।‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top