‌জানার ছিল, আর্থিক সঙ্কট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কীরকম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কী ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।‌ মনে হল, উত্তর খুব পরিষ্কার:‌ সঙ্কট নেই‍‌!‌ যা নেই, তা থেকে বেরিয়ে আসার কথা ওঠে কী করে!‌ চাহিদা তলানিতে, ঘুরে দাঁড়াতে হলে কিছু ব্যবস্থা নিতে হত। সাধারণ মানুষের কাছে টাকা তুলে দেওয়ার পথ খুঁজতে হত। না। চুপ!‌ কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তরুণরা চাকরি পাচ্ছেন না, এক কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। কী হবে?‌ কী করে খুলবে কাজের পথ?‌ উত্তর নেই বিচিত্র বাজেটে। গাড়ি, আবাসন শিল্পে সঙ্কট। বিশেষ কী ভাবা হল?‌ কিছুই না। কৃষকদের দুর্গতি চরম, উত্তর কী?‌ উত্তর হল, দু–‌বছরের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে। কী করে হবে?‌ চুপ!‌ মধ্যবিত্তরা তাকিয়ে থাকেন আয়কর ছাড়ের দিকে। একদিকে একটু কমল, অন্যদিকে ছাড়ের জায়গা কমিয়ে দেওয়া হল। আবার আয়কর সরলীকরণের নামে, জটিল করে দেওয়া হল। আয়করে নতুন ব্যবস্থায় যেটুকু সুবিধা, সেটা নিতে গেলে ছাড়ের সুবিধাটা ছাড়তে হবে। মধ্যবিত্তরা হিসেব কষতে বসুন, কীসে একটু সুবিধা। জীবনবিমার মতো প্রকল্পে যাঁরা আছেন, মাঝপথে নিশ্চয় বেরিয়ে আসবেন না। নির্মলা সীতারামন কি একটু বুঝিয়ে বলবেন, আসলে কতটুকু সুবিধা হল?‌ আদৌ হল কিনা?‌ একটি বাক্যে মারাত্মক কথা বলে দেওয়া হল। এলআইসি–‌র শেয়ার কিছুটা ছেড়ে দেবে সরকার। বেচে, টাকা আসবে। এয়ার ইন্ডিয়া বেচার জন্য চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার, এখনও ক্রেতা পাওয়া যায়নি। বিএসএনএল–‌এ বিলগ্নির পথ খুলে দেওয়া হয়েছে আগে। ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে অনুগত শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বাজেটের আগে ঘোষিত। এবার, এলআইসি!‌ নির্ভরযোগ্য সরকারি বিমা সংস্থা, তাকে অ–‌নির্ভরযোগ্য করে দেওয়া। এলআইসি–‌কে দুর্বল করা  হয়েছে পছন্দের শিল্পপতিদের ঋণ দিয়ে, যা ফিরছে না। ফিরহাদ হাকিম সঠিক বলেছেন, ওরা ‘‌ভারতমাতা ভারতমাতা’‌ বলে, কিন্তু মায়ের গয়নাগাটি বেচে দিচ্ছে। দেশটাকে বেচার ব্যবস্থা।   ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top