ধর্মস্থানে যেন ভিড় না হয়, ধর্মীয় কারণে যেন ভিড় না হয়, আবেদন ছিল সরকারের। ব্যতিক্রমী ঘটনা যদিও দেখা গেছে, সংখ্যায় বেশি নয়। তখনও লকডাউন ঘোষণা হয়নি, কিন্তু বিপদের আঁচ লাগছিল, দিল্লিতে তবলিগি জামাতের সমাবেশ। কেন বিদেশিদের ভিসা দেওয়া হয়েছিল, বড় প্রশ্ন। জমায়েতের আগের দিন রাহুল গান্ধী টুইট করেছিলেন, এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে, সরকার যেন ব্যবস্থা নেয়। করোনাভাইরাসে বিপুলভাবে আক্রান্ত দেশ থেকেও লোক এসেছেন। কিছু করা হয়নি। এই সুযোগে সাম্প্রদায়িক প্রচার করা গেল, ২০০০ সংখ্যালঘু মানুষের জন্য দেশের ২০ কোটি মানুষের দিকে আঙুল উঠল। কর্ণাটকের কালবুর্গিতে প্রথম করোনা–‌আক্রান্তের মৃত্যু। তবু কালবুর্গিতে সিদ্ধ লিঙ্গেশ্বর রথ উৎসবে সমাবেশ কয়েক হাজার মানুষের। কর্ণাটক সরকার নির্বিকার থাকল। এজন্য নিশ্চয় ১১০ কোটি হিন্দুকে দায়ী করা যায় না। সাধারণভাবে ধর্মীয় নেতারা নির্দেশ মেনেছেন, স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। কোনও মন্দিরে পুণ্যার্থীদের আসতে দেওয়া হয়নি। কোনও মসজিদে বা গির্জাতে বা গুরুদ্বারে জমায়েত হতে পারেনি। একটা দাবি উঠেছে, যে–‌সব ধর্মস্থানের বিপুল সম্পদ, কেন দেওয়া হবে না ত্রাণ তহবিলে। তিরুপতি–‌সহ আরও এমন ১৬টি মন্দির আছে দক্ষিণ ভারতে, যাদের গচ্ছিত সম্পদ বিপুল। সব মিলিয়ে আনুমানিক ২ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ, ব্যাঙ্কে, সোনাদানা–‌সহ। অন্তত অর্ধেক যদি সঙ্কট কাটাতে দেওয়া হয়, ‘‌দেবতা’ ‌নিশ্চয় অসন্তুষ্ট হবেন না। বলা হয়, এগুলো ‘‌পবিত্র সম্পদ’‌। পবিত্র সম্পদ পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত হোক।

জনপ্রিয়

Back To Top