‘‌বিজেপি কখনও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেনি, এটা আমাদের দলে ছিল না।’‌ কার্যত বলেই দিলেন আদবানি যে, এখন তা করা হচ্ছে। ‘‌বিজেপি দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এসেছে, কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছায় দল চলত না।’‌ বক্তব্য পরিষ্কার। এখন ঠিক সেটাই চলছে। ‘‌বিজেপি অন্য দলকে শত্রু মনে করেনি, প্রতিপক্ষ ভেবে এসেছে। মতে না মিললে ‘‌দেশদ্রোহী’‌ বলে দেওয়া বিজেপি–‌র রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়।’ বক্তব্য এত বেশি স্পষ্ট যে, ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। প্রবীণ নেতার প্রত্যেকটা কথাই সরাসরি বিঁধছে নরেন্দ্র মোদিকে। আদবানি দলে এতটাই শ্রদ্ধেয় যে, পাল্টা কিছু বলা যাচ্ছে না। মিনমিন করে নেতারা বলছেন, তিনি শ্রদ্ধেয়, পরামর্শ দিচ্ছেন, বর্তমান নেতৃত্ব সম্পর্কে খারাপ কিছু বলেননি!‌ আদবানিকে যেভাবে অপমানিত করেছেন মোদি–‌শাহ, দলের অনেকেই নিশ্চয় ক্ষুব্ধ, কিছু ব‌লতে পারছেন না। আজকের অধিকাংশ নেতাই তাঁর হাতে তৈরি, স্বয়ং নরেন্দ্র মোদিও আছেন সেই তালিকায়। কিছু সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। এক, গুজরাট গণহত্যার পর মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে সরাতে চেয়েছিলেন বাজপেয়ী, আটকে দেন আদবানিই। দায় অস্বীকার করতে পারেন? দুই, বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল যে–‌আন্দোলনের জেরে, তার প্রধান নেতা ছিলেন আদবানিই। দায় অস্বীকার করতে পারেন?‌ সমালোচনা, আজ যখন তাঁকে প্রার্থী করা হল না, মুখ খুলছেন। কী দাম আছে?‌ আছে। বিজেপি–‌র জনপ্রতিনিধি হিসেবে অস্বস্তিকর কিছু বলা শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না। শৃঙ্খলার ভক্ত আদবানি তাই নীরব ছিলেন। মনে রাখতে হবে, মোদি–‌জমানার দুষ্কাণ্ডের পক্ষে একটা কথাও বলেননি। এত বড় নেতা, দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্য মূল্যহীন বলা যায় না। ভাল, দেরিতে হলেও।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top