৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সোমেন মিত্র। রাজনৈতিক বানপ্রস্থে যাননি। যাওয়ার কথা ভাবেননি। শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। ১৯৯২ সালে প্রথম সভাপতি হন। পরের বছরই বাংলার রাজনীতিতে মমতা আনেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। কংগ্রেসের মূল জায়গাটা পেয়ে যান মমতাই। ২০০৯ সালে সেই মমতার হাতে প্রার্থিপদ পেয়েই হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কয়েক বছর পর ফেরেন কংগ্রেসে। ২০১৮ সালে, যখন রাজ্যে কংগ্রেস প্রায় চূর্ণ, দ্বিতীয় দফায় সভাপতি। মাঝে কয়েকটা বছর দিল্লির সুনজরে ছিলেন না। রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবপ্রসাদ রায়কে হারানোয়, জয়ন্ত ভট্টাচার্যকে জেতানোর প্রধান স্থপতি সোমেন, এই অভিযোগে দিল্লি অসন্তুষ্ট ছিল। বহু বছর ধরে সংগঠক হিসেবে উজ্জ্বল থেকেছেন। বাংলার কোনও ব্লক ছিল না, যেখানে তঁার অনুগামী নেই। ৩২ বছর বয়সে বিধায়ক। যা প্রভাব, তখন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সরকারে মন্ত্রী হতে পারতেন। চেয়েছেন সাংগঠনিক কাজ করতে। কংগ্রেস–‌বাম জোট দুর্বল হলেও, তার মধ্যেই তঁার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মধ্য কলকাতায়, শুধু কর্মীদের নয়, সাধারণ বহু যুবকেরই ছিলেন প্রিয় ‘‌ছোড়দা’‌। ৪৫, আমহার্স্ট স্ট্রিট ছিল অবারিত দ্বার। একটা একটা বড় দিক, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে ছিলেন আপসহীন। সর্বার্থে জননেতা ছিলেন না। মমতা ব্যানার্জির উত্থানের সামনে ক্রমশ দুর্বল হয়েছেন। কিন্তু সংগঠনে যুক্ত থেকেছেন আজীবন। বুদ্ধিমান, ঘরোয়া। সব কিছু ছাড়িয়ে বলতে হবে, মূলত সংগঠক।

জনপ্রিয়

Back To Top