ইন্দিরা গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্বের ঔজ্জ্বল্য কিছু কম নয়। তিনটির কথা বলতেই হয়। এক, ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ। এক দশক আগের বিশ্বমন্দাতেও ভারতের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্ত ছিল বলে। আমেরিকা–‌সহ বেশ কিছু দেশকে ভুগতে হয়েছিল। এখন কী হচ্ছে?‌ কেন্দ্রীয় সরকারের নানা সিদ্ধান্তে মনে হচ্ছে, ব্যাঙ্কে ব্যাপক বেসরকারীকরণ ওদের লক্ষ্য। অনেক বেসরকারি ব্যাঙ্কে কেলেঙ্কারি ধরা পড়ার পরেও, সেই চেষ্টা অব্যাহত। ইন্দিরা যে বলিষ্ট পদক্ষেপ করেছিলেন, তার কথা এখন বেশি মনে পড়ছে। দুই, রাজন্যভাতা বিলোপ। স্বাধীনতার দুই দশক পরেও প্রাক্তন রাজন্যবর্গ মোটা অঙ্কের ভাতা পাচ্ছিলেন। বিরোধিতা অতিক্রম করে ইন্দিরা সফল হয়েছিলেন। এই ব্যাপারটা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তিন, বাংলাদেশ যুদ্ধ, সংগ্রাম। যেভাবে সহমর্মিতা নিয়ে দঁাড়িয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে, দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করে পূর্ববঙ্গ–‌ছাড়া করেছিলেন পাকিস্তানকে, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু, একটি কালো দাগ অনেক ভাল কাজকে ভুলতে বাধ্য করেছে। জরুরি অবস্থা, ১৯৭৫। আজও কংগ্রেসকে নিন্দা শুনতে হয়। গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল। ২ বছর পরেই অবশ্য জবাব দিয়েছিলেন ভারতবাসী। আর, এবার, ২০২০ সালে কী হল?‌ অতিমারীর মধ্যে পাশ করিয়ে নেওয়া হল বিদ্যুৎ, শিক্ষা, কৃষি বিল। রাজ্যসভায় যা ঘটল, অভাবনীয়। কৃষি বিল ধ্বনিভোটে পাশ। সংসদের রুলবুকের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, একজন সদস্যও ডিভিশন চাইলে ভোটাভুটি করতে হবে, সিলেক্ট কমিটিতে যদি আগে গিয়ে না থাকে। যখন বিভাজন স্পষ্ট, ধ্বনিভোট হয়?‌ অকালি দলের মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। পরোক্ষ বন্ধু বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও টিআরএস বিরুদ্ধে। তবু। রাজ্যসভায় অনেক সদস্য দূরত্ববিধি মেনে বসেছিলেন গ্যালারিতে, লোকসভায়। কী করে ধ্বনি ভোট?‌ লবিতে ভোটাভুটির ব্যবস্থা আছে। করা হল না। ঘোর স্বৈরতন্ত্র। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top