শতবর্ষের অনুষ্ঠান চলছে ইস্টবেঙ্গলে। স্পনসর পক্ষ উদাসীন, ওদের তাপ–‌উত্তাপ নেই। ক্লাব কর্তারা সীমাবদ্ধতা নিয়েও যথেষ্ট উদ্যোগী। সদস্য ও সমর্থকদের উৎসাহ–‌উদ্দীপনাও দেখার মতো। মোহনবাগানের শতবর্ষ পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। দুই ক্লাবই শতাব্দীপ্রাচীন, বিপুল সমর্থক দেশে, বিদেশেও। দুটি ক্লাবকেই শেষ করে দিতে চাইছে এআইএফএফ। আইএসএল নামে ব্যবসাটি মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গলকে প্রথম সারির ক্লাব হিসেবে বেঁচে থাকতে দিতে চাইছে না। কলকাতার দুই প্রধান এক্ষেত্রে একজোট, যেভাবেই হোক চক্রান্ত চূর্ণ করতে হবে। ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের সূচনায় দুর্ধর্ষ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মোহনবাগানের পক্ষে দেবাশিস দত্ত। বলেন, ‘‌মাঠে লড়াই আছে, থাকবে। কিন্তু মোহনবাগান ছাড়া ইস্টবেঙ্গল থাকবে না, ইস্টবেঙ্গল থাকবে না। দুটো ক্লাব ভারতীয় ফুটবলের স্তম্ভ।’‌ তাল কাটল ৮ আগস্ট। ময়দানে মোহনবাগানের ম্যাচ ছিল। খেলা শেষ হওয়ার পর, কিছু অসভ্য সমর্থক ইস্টবেঙ্গলের অস্থায়ী তোরণ ভেঙে তছনছ করে। ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল কর্তারা বলেন, এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে। সেটা স্বাভাবিক। মোহনবাগান কর্তারা কী করলেন?‌ প্রথমত, দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতি দিলেন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে চিঠি দিলেন, যা আন্তরিকতায় উজ্জ্বল। দ্বিতীয়ত, এখানেই থেমে না থেকে, মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জন বসু থানায় লিখিত অভিযোগ করলেন, ওই অসভ্য সমর্থকদের নামে। তৃতীয়ত, দুঃখিত মোহনবাগান কর্তারা চাইলেন, অস্থায়ী তোরণ নতুনভাবে তৈরি করার খরচ দিতে। ইস্টবেঙ্গল জানিয়েছে, ধন্যবাদ, কিছু দরকার হবে না। ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের মনোভাবও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। আমরা গর্বিত থাকব দুই প্রধানের জন্য। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top