কেউ কখনও কোথাও শোনেননি, এমন ঘটনা আমাদের মহান ভারতে ঘটে। বিস্মিত নয়, আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। লোকসভার নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই লোকসভায় তাঁর দল বিজেপি–‌র নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা। অধিবেশন যাতে ঠিকঠাক চলে, তার দায়িত্ব সরকারি দলের। নরেন্দ্র মোদি অনশন করছেন লোকসভার অধিবেশন কার্যত পণ্ড হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে। উদ্বেগের কিছু নেই। মাত্র একদিনের অনশন। কিছু মানুষ সুস্থ থাকার জন্য সপ্তাহে একদিন উপবাস করেন। জানি না, এই ভাল অভ্যেস আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও আছে কিনা। সেই দিনটা বুধবারই হলে তো ঝামেলা চুকেই গেল। গত বুধবার নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে অনশন করেননি। কর্মবীর। গিয়েছিলেন চেন্নাই সফরে। বাড়িতেও একটা অফিস আছে, ফিরে সেখানেও কিছু কাজ করে থাকতে পারেন। দেখিয়ে দেখিয়ে অনশনে তিনি বিশ্বাস করেন না। মঞ্চ করতে হল না। সমর্থকদের জড়ো করতে হল না। বেশ। কথা হল, কেন অনশন?‌ আগেই বলা হয়েছে, লোকসভার অধিবেশন পণ্ডের প্রতিবাদে। ‘‌প্রতিবাদী’‌র অনশন, যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী!‌ তিনটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছিল। সরকার পড়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা বা সম্ভাবনা ছিল না। আশঙ্কা ছিল অস্বস্তিকর আলোচনার। নীরব মোদি কেলেঙ্কারি, দলিতদের ওপর আক্রমণ, কৃষকদের চরম দুর্গতি, একাধিক রাজ্যকে বিশাল সাহায্যের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, ইস্যুর অভাব ছিল না। এড়িয়ে যেতে চাইল শাসক দল। ক্ষুব্ধ তেলুগু দেশম প্রথম কয়েকদিন ব্যাপক হইচই করেছে। অন্য বিরোধী দলের পরামর্শে, প্রতিবাদ জারি রাখলেও ওরা আর অধিবেশন চলার ক্ষেত্রে বাধা দেয়নি। পণ্ড করার দায়িত্ব নিল এআইএডিএমকে। যারা বিজেপি সরকারের প্রবল বন্ধু। যেন নিজেরা বিতর্ক চাইছে, কিন্তু ওরা করতে দিচ্ছে না। ওরা কারা?‌ মোদি সরকারের বন্ধু!‌ এ এক আশ্চর্য অনশন।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top