মাননীয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় অবশ্যই গুণী ব্যক্তি। ব্যস্ত। কর্মঠ। সজাগ। ইত্যাদি। গত তিন মাসে তাঁর প্রবল তৎপরতা দেখে, কর্মক্ষমতা দেখে মুগ্ধ বঙ্গবাসী। আজ শিলিগুড়ি, কাল ধামাখালি ও সজনেখালি, দু’‌বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কত অনুষ্ঠানে, সভায়, এমনিতেও। বলছেন, সব জেলায় যাবেন। জনপ্রতিনিধি ও অফিসাররা যদি তাঁর বৈঠকে না আসেন, সমস্যা নেই। তাঁকে ঠেকানো যাবে না। গোটা রাজ্যে মানুষের কাছে সরাসরি যাবেন। কথা বলবেন। সমস্যার সমাধান করবেন। তাঁর কথা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত। এমন রাজ্যপাল বাংলা আগে দেখেনি, পরেও কখনও দেখবে না। ব্যস্ততার সীমা নেই। সকাল থেকে বিরোধী দল, আরএসএস নেতৃত্ব, নানা প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে। রাজ্যপাল ডাকছেন, এসো, এসো, এসো। তিন মাসে কতজনের সঙ্গে কত বৈঠক করলেন, হিসেব করলে মানতেও হবে, রেকর্ড। সর্বভারতীয় রেকর্ড। শুধু বক্তব্য শুনলেই হবে না। সেই মতো ‘‌ব্যবস্থা’‌ নিতে হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যাপারটা তো থাকেই। নানামুখে নানা অভিযোগ শুনে, সত্যতা যাচাই না করেই চিঠি দেন রাজ্য সরকারকে। ভাবতে হয়, অফিসারদের ডেকে চিঠি তৈরির দিকনির্দেশ করতে হয়। টেলিভিশনে নানা ইন্টারভিউ, হ্যাঁ, তা–‌ও দিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিন কিছু না কিছু বলার আছে তাঁর। কিংবদন্তি ফুটবলার পিকে ব্যানার্জির বাড়িতে গেছেন সৌজন্য সাক্ষাৎকারে। বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বললেন, রাজ্যের বিরুদ্ধে। কত তৎপর। প্রায় রোজ টুইট। নতুন নতুন বার্তা। এরই মধ্যে তিনি বলে দিলেন, বুঝেছেন, শিক্ষা–‌সাহিত্য–‌সংস্কৃতিতে সেরা কলকাতা, এগিয়ে প্যারিসের চেয়েও। আর, গত তিন মাসে ১০০০ বই পড়েছেন। কত কাজ, অকাজ। তাছাড়া, ক্লাব–আসর–‌বিদ্যা ইত্যাদিতেও আট ঘণ্টা নিশ্চয় লাগে। সংবাদপত্র পড়া, টিভি দেখা আছে। তার মধ্যে, ৯০ দিনে ১০০০ বই। হিসেব করে দেখেছি, দিনে ১১–‌র বেশি। সম্ভবত আট ঘণ্টায় একটা বই। ওঃ, এমন পড়ুয়া কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top