কর্ণাটকের বিজয়পুরে অতি নিন্দাজনক এক ঘটনা ঘটেছে। এক বেসরকারি কলেজের অধ্যাপক ফেসবুকে মন্তব্য করেছিলেন, দেশে যুদ্ধের আবহাওয়া তৈরি করেছে বিজেপি সরকার। ‘‌এবিভিপি’‌ নামধারী বিজেপি–‌র গুন্ডারা এসে অধ্যাপককে চরম হেনস্থা করেছে। সংবাদমাধ্যমে এই হেনস্থার ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে পুলিশকে দেখা যাচ্ছে দর্শকের ভূমিকায়। আমরা তীব্র নিন্দা করছি গুন্ডা এবিভিপি–‌কে। তবে তারা তাদের রাজনৈতিক চরিত্র অনুযায়ী কাজ করেছে। এর আগেও তারা বহু ইস্যুতে গুন্ডার ভূমিকা পালন করেছে। আমার নিন্দা করছি পুলিশ প্রশাসনের। অধ্যাপকের হেনস্থা দেখেও যারা হাত গুটিয়েছিল তাদের খুঁজে বের করে যদি শাস্তি দেওয়া না হয় তাহলে ধরে নিতে হবে জঙ্গলের রাজ এসে গেছে। এরপর গণপিটুনি ধরনের ঘটনাতেও পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। এখানেই শেষ নয়। আমরা নিন্দা করছি ওই অধ্যাপকেরও। একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে স্পর্শকাতর এক সময়ে তিনি কোন কাণ্ডজ্ঞানে এই কাজটি করলেন!‌ মানুষ যখন ভাবাবেগে উন্মাদ হয়ে ওঠে, তখন সে যুক্তিবুদ্ধির ধার দিয়ে যায় না। সেই সময় এমন কিছু করা উচিত নয় যা এই অন্ধ নির্বোধ ভাবাবেগকে আর উসকে দেয়। নিজের মত, প্রতিবাদ প্রকাশ করবার আগে অপেক্ষা করতে হয়। দু’‌বার ভাবতে দিতে হয়। পরিস্থিতি শান্ত হতে দিতে হয়। অধ্যাপক মহাশয় কোন ‘‌হিরো’‌ হওয়ার লোভে আগুনে ঘি দিয়েছিলেন?‌ এমন তো নয়, উনি পথে নেমে কারও প্রাণ বঁাচাতে গিয়েছিলেন। নিরাপদ ঘরে বসে ‘‌মতামত’ দিচ্ছিলেন। এই কুৎসিত ভাবাবেগ কমে গেলে, উনি নিশ্চয় অন্য বিষয়ে ‘‌মতামত’ দেবেন। বাজার তখন যেমন ‘‌খাবে’‌। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা হয়ে থাকে আর কী। রাজনৈতিক নেতা, সমর্থক যে কাজ করতে পারে, সংবাদ মাধ্যম যে কাজ করতে পারে, একজন ব্যক্তি একা সে কাজ করতে পারে না। তাকে অপেক্ষা করতে হয়। অধ্যাপকমশাই এটা জানেন না!‌ তিনি ভুল করেছেন। যে আগুন ধ্বংস করে, যে আগুন যুক্তি বুদ্ধি মানে না, যে আগুন সভ্যতার বিরুদ্ধে, তাকে আরও বাড়িয়েছেন। এটা ঠিক নয়।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top