দিল্লি বিধানসভা ভোটের মুখে, সংসদকে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিন মাস আগেই সুপ্রিম কোর্টের রায়, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির গড়ার জন্য ট্রাস্ট তৈরি করে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। যেন অপেক্ষা করছিলেন, ভোটের কাজে লাগাবেন বলে। রামমন্দির হাওয়া আরেকটু তুলে, দিল্লিতে মেরুকরণের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা। ট্রাস্টের সদস্যদের নাম কিন্তু বলা হয়নি, দিল্লি ভোটের আগে হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটির আশঙ্কায়। বিধানসভা ভোটের প্রচারের শেষ দিন সংসদের দুই কক্ষে লম্বা জবাবি ভাষণ দিলেন মোদি। কিন্তু, বিরোধীদের কথায় জবাব দেননি। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কিছু চুটকি, বেশিটাই ভোটকে সাম্প্রদায়িক প্রচারে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা। নরেন্দ্র মোদি প্রচারসভায় বলেছেন, বিষ ছড়িয়েছেন, কিন্তু সংসদে জবাবি ভাষণেও সরাসরি নির্বাচনী প্রচার। আসল কথায় যাওয়ার নামগন্ধ নেই। বিরোধীরা বারবার বলছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মধ্যেও, ‘‌রোজগার রোজগার, রোজগার।’‌ কিছু বলুন রোজগার নিয়ে। মোদি এড়ালেন। কারণ স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য কিছু বলে উঠতে পারবেন না। প্রচারসভায় রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, আসল ইস্যু থেকে নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি। বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদি। হয়নি। উল্টে, গত এক বছরে কাজ হারিয়েছেন এক কোটি মানুষ। তরুণরা ক্ষুব্ধ। যতই নজর ঘোরানোর চেষ্টা করুন প্রধানমন্ত্রী, তরুণদের ক্ষোভ বিদ্ধ করবে কয়েক মাসের মধ্যে। লাঠিপেটা হতে হবে। ‘‌লাঠি’‌ শব্দটা ব্যবহার না করলে পারতেন রাহুল। কিন্তু, মূল বক্তব্য নির্ভুল। মোদি বললেন, সূর্যপ্রণাম বাড়াবেন, যাতে লাঠির আঘাত সহ্য করতে পারেন। যা দাঁড়াল ‘‌লাঠি’‌, তরুণদের ক্ষোভে ‘‌লাঠি’‌ থাকলে থাকবে, তিনি সামলে নেবেন। বললেন না, সমস্যার সমাধান করবেন।

জনপ্রিয়

Back To Top