খুব প্রয়োজনীয়, কিন্তু কখনও কারও মাথায় আসেনি। পথ দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষকে কে নিয়ে যাবে হাসপাতালে?‌ কীভাবে নিয়ে যাবে?‌ অনেক সময়েই দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর আহত মানুষ পড়ে আছেন পথের ধারে। এগিয়ে আসার কেউ নেই। অথচ তাঁকে যদি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়, তঁার ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। শুনতে খারাপ লাগলেও, সঙ্গী না থাকলে আহতকে বেশিরভাগ সময়ে পড়ে থাকতে হয় রক্তাক্ত অবস্থায়। রাজ্য সরকার দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষের জন্য আলাদা করে ভেবেছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ টিম। এদের নাম দেওয়া হবে পথবন্ধু। পুলিশ থেকে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ। তারা শিখবে, কীভাবে মোবাইলে ফোন অ্যাপ থেকে ডেকে নেওয়া যায় অ্যাম্বুল্যান্স, কীভাবে খবর দেওয়া যায় পুলিশকে, কীভাবে দ্রুত পৌঁছনো যায় হাসপাতালে। ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই ভাবনাকে দলমত নির্বিশেষে সাধুবাদ না–‌‌জানানোটা অপরাধ। যাঁরা এর মধ্যে কোনওরকম ছিদ্র খুঁজবেন, তাঁরা মানুষ হিসেবে নিজেদের ‘‌ছোট’‌ই প্রমাণ করবেন। অনেক কিছু নিয়ে রাজনীতি করা চলে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করা চলে না। এই পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে যদি একজন মানুষও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলেই আমরা খুশি। বলা বাহুল্য ‘‌পথবন্ধু’‌ কাজ শুরু করলে অনেকে উপকৃত হবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দুর্ঘটনার পর গাড়ি ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই এই ব্যাপারে সরকার কঠোর হোক। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালককে মারধর, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া যে সভ্য সমাজে চলতে পারে না, সরকার সেটা বুঝিয়ে দিক। সরকার যেমন বন্ধু হয়ে আহত মানুষের দিকে হাত বাড়িয়েছে, কড়া প্রশাসক হয়ে গুন্ডামি দমনও করুক।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top