২৫ ডিসেম্বর অটলবিহারী বাজপেয়ীর ৯৩তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, পূর্বসূরি বাজপেয়ীজিই তাঁর আদর্শ। সেই পথেই তিনি দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপি তথা এনডিএ–‌র প্রথম প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী। মোদি তাঁকে ‘‌আদর্শ’‌ মানলে বিস্ময়ের কিছু থাকার কথা নয়। কিন্তু, আছে। নরেন্দ্র মোদির ধরনধারণ বাজপেয়ী কখনও পছন্দ করেছেন বলে জানা যায় না। যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী করা হয় আরএসএস থেকে দলে–‌পাঠানো মোদিকে, প্রাথমিক আপত্তি জানান বাজপেয়ী। আরএসএস–‌এর চাপে এবং আদবানির উদ্যোগেই হয় অভিষেক। গুজরাটে গণহত্যার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মোদিই। একতরফা দাঙ্গা থামানোর চেষ্টা করেননি। দৃঢ় অভিযোগ, তাঁর তত্ত্বাবধানেই রচিত হয়েছিল কলঙ্কের ইতিহাস। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মোদিকে সরানোর কথা বৈঠকে খোলাখুলি বলেন বাজপেয়ী। তখনও, লালকৃষ্ণ আদবানিই বাঁচিয়ে দেন (‌তার প্রতিদান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন আদবানিকে কার্যত বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে!‌)‌। গুজরাট গণহত্যার পর গুজরাটে গিয়ে, আমেদাবাদের শাহ আজম দরগায় দুর্গতদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বাজপেয়ী মোদির উদ্দেশে সরাসরি বলেন, ‘‌রাজধর্ম পালন করুন।’‌ মোদি–‌জমানায় দেশ জুড়ে অসহিষ্ণুতার অসংখ্য ঘটনা। প্রায় প্রতিদিন। কোনও ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়া নেই প্রধানমন্ত্রীর। কার্যত সায়। বাজপেয়ীর সঙ্গে তুলনা?‌ নির্বাচনী প্রচারে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য পেশ করেন মোদি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। কখনও করেননি বাজপেয়ী। নোটবন্দির মতো জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশবাসীকে পথে বসিয়েছেন মোদি। এমন কোনও অপকর্ম বাজপেয়ী করেননি। রাজনীতিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে দু’‌জনের কোনও মিল নেই। বাজপেয়ীর আদর্শ মেনেই চলছেন, এটা ঘোর মিথ্যাচার। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top