ভারতে ২০১৪ পর্যন্ত যা যা হয়েছে, সবই ভুল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর সঙ্গীযাত্রীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। মাঝে অন্তত পাঁচ বছর যে বিজেপি–‌রই অগ্রগণ্য নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী ছিলেন, ভুলে যান মোদিরা।  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত হেগড়ে বলে ফেলেছেন, ‘‌ধর্মনিরপেক্ষ’‌ কথাটাই বাদ দেওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন করবে এই সরকার!‌ উল্টে দেওয়ার, আজগুবি নতুন কিছু করার নেশা মাত্রা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন গড়ার বিল। এতদিনের পরীক্ষিত সংস্থা মেডিক্যাল কমিশন অফ ইন্ডিয়াকে বাতিল করার উদ্যোগ। এমসিআই নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠলেও, সব মিলিয়ে ভাল দিকটা বেশি, সন্দেহ নেই। কী কী থাকছে নতুন বিলে, যা সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হল?‌ রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতা নেই, তাই এখনও কোনও কোনও ক্ষেত্রে দু–‌পা পিছিয়ে যেতে হচ্ছে বিজেপি সরকারকে। প্রস্তাব, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকরা সংক্ষিপ্ত ব্রিজ কোর্স করেই অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করতে পারবেন। জানা যাচ্ছে, ব্রিজ কোর্স হতে পারে কয়েক সপ্তাহের!‌ ‘‌ব্রিজ কোর্স’‌ করে যাঁরা আসবেন, তাঁরা অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ অবাধে লিখে দেবেন, শুনে আতঙ্কিত অনেক ডাক্তার। আর একটা প্রস্তাব, এমবিবিএস পাস করার পরেও আলাদা পরীক্ষা দিতে হবে, চিকিৎসা করার অধিকার পাওয়ার জন্য। চার বছরের বেশি শিখে, খেটে এমবিবিএস পাস করতে হয়। তারপর কেন আবার পরীক্ষা?‌ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রতিনিধিসুলভ চরিত্রটাই বদলে দেওয়ার চেষ্টা। ডাক্তাররাই নিশ্চিত করবেন কেন্দ্রে ও রাজ্যে কমিশনের পদাধিকারীদের। নতুন বিল চাইছে, সরকার মনোনীত কর্মকর্তাদের। কমিশনের মাথায় থাকবেন কোনও আমলা বা রাজনীতিক, ডাক্তার নয়। ভাবা যায় না। এই উল্টে দেওয়ার খেলা ছাড়াতে ওষুধ চাই দ্রুত।

জনপ্রিয়

Back To Top