কোনও বিদেশি পড়তে এলে, কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। সে তো এদেশের মানুষকেও নিয়ম মেনে চলতে হয়। চলার কথা। পরপর তিনটি ঘটনা চিন্তায় ফেলে দিল‌, গোটা পৃথিবীকে জানানো হল যে, ভারত চূড়ান্ত অসহিষ্ণু রাষ্ট্র। বলতে পারেন, আশ্চর্য হওয়ার কী আছে। যে–‌দেশে সংখ্যালঘু হওয়ার ‘‌অপরাধে’‌ প্রাণ দিতে হয়, নিগৃহীত হতে হয়, যে–‌দেশের শাসক দল বিশ্বাস করে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতায়, যে দেশে দলিত হওয়ার ‘অপরাধে’ নির্যাতিত হতে হয়, সে–‌দেশে অসহিষ্ণুতা থাকা তো স্বাভাবিক। দিল্লিতে যা ঘটল, সিএএ–‌এনআরসি দিয়ে যেভাবে চূড়ান্ত বিপর্যস্ত করা চলছে মানুষকে, সে–‌দেশে অসহিষ্ণুতা থাকে, থাকবে। কিন্তু, সম্প্রতি বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে যা করছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বদনাম কি বেড়ে যাচ্ছে না? চেন্নাই আইআইটি–‌তে সিএএ–‌র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সভাতে উপস্থিত ছিলেন এক জার্মান ছাত্র। সেই ‘‌অপরাধে’‌ তাঁকে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হল। নেতৃত্ব দেননি, কোনও বিতর্কিত স্লোগানও দেননি, শুধু উপস্থিতির জন্য তাড়িয়ে দেওয়া হল। বিশ্বভারতীতে পড়তে আসেন বাংলাদেশের ছাত্রী আফসারা অনিকা মিম। একটা মিছিলের ছবি আপলোড করেছিলেন। তাঁকে বহিষ্কারের নোটিস ধরিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট অফিস। ভাল বার্তা গেল বন্ধুদেশ বাংলাদেশে? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা মিছিলে ছিলেন পোল্যান্ডের কামিল শেদচিনস্কি। তাঁকেও বিতাড়নের নোটিস। বলা হল, কোনও বিদেশি কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারবে না, এদেশের আইন। কলকাতা হাইকোর্টের লব্ধপ্রতিষ্ঠ আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বললেন, যদি কোনও খারাপ আইন থাকে, পাল্টানো হবে না কেন?‌ আমেরিকাকে আদর্শ রাষ্ট্র মনে করে মোদি সরকার। সেই দেশে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভে থাকেন। অক্সফোর্ডে পড়ার সময় বিল ক্লিন্টন ভিয়েতনামে যুদ্ধ–‌বিরোধী মিছিলে স্লোগান তুলেছিলেন। তরুণদের প্রতি এমন নির্দয় হবে কেন ভারত?‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top