সুখবর। গর্বের খবর। ভরসার খবর। বাঙালি‌‌‌‌–‌কন্যা ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হলেন। মাননীয়া বিচারপতিকে অভিনন্দন। এখন আরও দুজন মহিলা বিচারপতি রয়েছেন সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে। এই প্রথম দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একই সঙ্গে তিন মহিলা বিচারপতি কাজ করবেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। গোটা দেশের জন্য সুখবর। এঁরা প্রত্যেকেই একসময়ে বিভিন্ন হাইকোর্টে যোগ্যতার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে এসেছেন। মাননীয়া ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার আরও বড় দায়িত্ব পেলেন। দেশের বিভিন্ন উচ্চপদে যত বেশি করে মহিলাদের জায়গা হয়, দেশ তত উন্নত হয়, সভ্য হয়। কথায় আছে, যে সমাজ নারীজাতিকে সম্মানের আসনে বসাতে পারে না, সে সমাজের পক্ষে উন্নতি করা অসম্ভব। কথাটা ঠিক। মহিলারা যত বড়, যত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসবেন, মহিলাদের ওপর অত্যাচার, বঞ্চনা তত কমবে। প্রমাণ হবে, মহিলারা দুর্বল নয়। মাননীয়া ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেব নিয়োগ করে দেশ এই কাজে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। তবে বির্তক র‌য়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টে ২২ জন পুরুষ বিচারপতি। আরও মহিলা বিচারপতি কেন নেই?‌ সরকার নিশ্চয় এই দিকে নজর দেবে। নারী–‌পুরুষ কঁাধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে তবেই তো দেশ শক্তিশালী হবে। একদিকের কঁাধ দুর্বল হলে চলবে কেন?‌ সেই সঙ্গে আবেদন নারীবাদীদের কাছে। শুধু মেয়েদের দুঃখ কষ্ট অত্যাচার নিয়ে সোচ্চার হলে চলবে না। একজন মহিলা বড় দায়িত্ব পেলে তাঁকে নিয়েও হইচই করতে হবে। এতে মেয়েদের উৎসাহ, ভরসা বাড়বে। মেয়েদের সামনে তো দৃষ্টান্ত আনতে হবে। তাদের তো বলতে হবে মেয়ে হয়ে জন্মানো মানেই অত্যাচারিত হওয়া নয়। চেষ্টা করলে অনেক বড় হওয়া যায়। শুধু উঁচু পদ কেন?‌ কত গরিব ঘরের মেয়েরাও তো কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। ভাল রেজাল্ট করছে। গতানুগতিক লেখাপড়ার বাইরে গিয়ে তো কত মেয়ে জীবনে নাম করছে, সম্মান অর্জন করছে। খেলে, গান করে, অভিনয় করে। নারীবাদীরা এদের কথা গলা তুলে বলুন। মেয়েরা গর্ব করবে, ভরসা পাবে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top