বেশ ভাল। এইরকম বললে, চিনতে সুবিধে হয়। মানুষ বোঝেন সহজে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী হংসরাজ আহিরের কিছু নামডাক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বাচাল নন, কথা বলেন ভেবেচিন্তে। সেই ফাঁক মাঝে মাঝেই ভরাট করে দেন এই হংসরাজ। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে এক হাসপাতালের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সমাবেশ যথেষ্টই ছিল, কিন্তু বেশ কিছু ডাক্তার অনুপস্থিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রেগে আগুন। তিনি আসছেন, তবু এত ডাক্তার গরহাজির, এত সাহস!‌ যা বললেন, তা সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। ‘‌অনেক ডাক্তারই আসেননি। আমি ভারতবাসীর ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী। আমাকে উপেক্ষা করা মানে গণতন্ত্রকেই অসম্মান করা। ওই ডাক্তারদের বলছি, গণতন্ত্রকেই যখন সম্মান করেন না, মাওবাদী হয়ে যান। তাহলে আপনাদের গুলি করে মারব!‌’‌ স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, গুলি করে মারবেন। ‘‌মাওবাদী’‌ আদর্শে বিশ্বাসী হলেই অপরাধী হয়ে যান না কেউ। হিংসাত্মক ও ধ্বংসাত্মক  কাজে জড়িত থাকলে, প্রমাণিত হলে, যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা আছে। সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুদায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। অনুপস্থিত ডাক্তারদের মধ্যে কেউ গণতন্ত্র–বিরোধী বা মাওবাদী কি না জানি না, তবে দু’‌জন জানিয়েছেন, জরুরি অপারেশন করছিলেন। আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ের উক্তিও রোমহর্ষক। ‘‌যাঁরা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলেন, তাঁদের বংশপরিচয় নেই, বাবা–মায়ের ঠিক নেই!‌ ‘‌ধর্মনিরপেক্ষ’‌‌ কথাটাই তুলে দেওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে।’‌‌ এই অনন্তকুমারই আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের পিটিয়েছিলেন। যা–‌ই হোক, এই দুই মন্ত্রীর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। ওঁরা আসলে কী, বোঝার সুবিধা করে দেওয়ার জন্য। হৃদয়ে আদর্শে বিষ, কিন্তু মুখে মধু, এমন বিজেপি নেতাদের চেয়ে হংসরাজ–অনন্তকুমাররা অনেক ‘‌উপকারী’!‌

জনপ্রিয়

Back To Top