দু–‌এক বছরের মধ্যেই এসে গেল তঁাদের জন্মশতবর্ষ। ভাবলে বিস্মিত হতে হয়, গর্বিত তো বটেই, প্রায় একই সময়ে কতজন বরেণ্য বাঙালি জন্মেছিলেন। সুভাষ মুখোপাধ্যায়। ভিন্ন ধারার এমন কবি, যিনি কথ্যভাষাকেও এনেছিলেন কবিতায়। নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মানের কবি। তঁার বামপন্থী মনোভাব এবং কাজ বুদ্ধদেব বসু পচ্ছন্দ করেননি। কিন্তু স্পষ্ট বলেছেন, কবি হিসেবে সুভাষের স্থান একেবারে উপরের দিকে। ১৯২০ সালের কাছাকাছি জন্মেছিলেন সত্যজিৎ রায়। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার। ‘‌পথের পাঁচালী’‌ থেকে ‘‌আগন্তুক’‌ তঁার কীর্তিস্তম্ভ। লেখক হিসেবেও তঁার জনপ্রিয়তার কাছাকাছি খুব কমজনই যেতে পেরেছেন। জন্মশতবর্ষ চলে গেল কোনও অনুষ্ঠান ছাড়াই। ভাইরাল হানা, সঙ্কটের কাল। মানুষ প্রতিনিয়ত তঁাকে স্মরণ করে, করে যাবে। রবিশঙ্কর। খ্যাতি সারা বিশ্বে। সেতারের লালিত্যে মুগ্ধ শ্রোতারা, সেই মুগ্ধতা অটুট। জন্মশতবর্ষ চলে গেল, পৃথিবীর নানা জায়গায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল, করা গেল না। নামে যিনি হেমন্ত, কণ্ঠে তঁার চিরবসন্ত। হেমন্তকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভোলা যাবে না। আরেক কীর্তিমান, দুরন্ত কণ্ঠ ও সাধনার ধারক মান্না দে। এবং অজয় বসু। ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে স্পষ্টবাদী। প্রিয় ফুটবলার পি কে ব্যানার্জির কঠোরতম সমালোচনা করেছিলেন, একটি ম্যাচে দর্শকদের দিকে বুট দেখানোয়। আর, ধারাভাষ্যকার। বাংলা ধারাভাষ্যকে পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে। মাপা আবেগ, দুর্ধর্ষ হোমওয়ার্ক। আর সেই কণ্ঠ। বেঁচে আছেন, থাকবেন।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top