এই তো সেদিন মণিশঙ্কর আয়ার ‘‌নিচ’‌ বলে গাল পাড়তেই কেমন গাল ফুলিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। নিচু জাতির পরিচয় নিয়ে শ্লাঘায় উচ্চকিত হলেন ভোটের গুজরাটে। ভোট মিটে যাওয়ার পর দুনিয়া রসাতলে গেলেও তিনি মৌন থাকেন, ভীমা–‌কোরেগাঁওয়ে দলিতদের ওপর বর্ণহিন্দুদের হামলার পরও তার অন্যথা ঘটেনি। মহারাষ্ট্র ভারতের এক উন্নত রাজ্য হলেও জাত–‌পাতের বিষ থেকে তাদের মুক্তি আজও মেলেনি। ’‌৮০–‌র দশকে মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ড.‌ বাবাসাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় রাখার পর ব্যাপারটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন শারদ পাওয়ার। মারাঠিদের তীব্র প্রতিবাদে ধীরে ধীরে সমর্থনভূমি হারিয়ে ফেলেন মহামারাঠি শারদ, তাঁর জমি দখল করে নেয় শিবসেনা। আর একটা ঘটনা ১৯৯৭ সালের। ঘাটকোপাড়ের রামবাই আম্বেদকর নগরের বাসিন্দাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল পুলিস। আম্বেদকরের মূর্তির অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ১০ দলিত প্রাণ হারান। গোটা মহারাষ্ট্রে দাঙ্গা লেগে যায়, দলিতদের  একঘরে করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকে সেই সঙ্গে। শিবসেনার সরকার তখন, দলিতদের যে কোনও বিক্ষোভ ঠেকাতে চরম পথ নেওয়ার ব্যাখ্যা তারাও দিতে পারেনি। দলিত আন্দোলনের দুই মেরু, প্রকাশ আম্বেদকর ও রামদাস আঠাওয়ালেকে এক মঞ্চে এনে দিয়েছিল ওই ঘটনা। সারা দেশে রামমন্দিরের হাওয়া থাকলেও মহারাষ্ট্রে লোকসভার ৪৮ আসনের মধ্যে ৩৭টি জিতেছিল কংগ্রেস ও সহযোগীরা। প্রমোদ মহাজন হেরেছিলেন মুম্বই উত্তর–পূর্ব থেকে। পরের বছর, ১৯৯৯ সালে মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি–‌সেনার জোট হেরে যায়। রামদাস আঠাওয়ালে এখন দিল্লির গদির আঠায় আটকে গেছেন, দেবেন্দ্র ফড়নবিশের গদি কিন্তু বিপন্ন। এবার শিবসেনাও পাশে নেই। বানিয়া–‌ব্রাহ্মণ তকমা ঝেড়ে ফেলতে রীতিমতো পরিশ্রম করেছিলেন প্রমোদ মহাজন ও গোপীনাথ মুন্ডে। ১১ শতাংশ দলিত মহারাষ্ট্রে ভোটের অঙ্ক উল্টে দেবে এবার।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top