পৌষমেলা নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু বিশ্বভারতী বা শান্তিনিকেতন নয়, গোটা বাংলা, গোটা দেশ এই সিদ্ধান্তে হতচকিত। পৌষমেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ, গৌরব তো শুধু বিশ্বভারতীর একার নয়, সবার। বিশ্বভারতী থেকে বলা হয়েছে, মেলা করবার বিস্তর সমস্যা। এত বড় মেলা করবার মতো পরিকাঠামো বিশ্বভারতীর হাতে নেই। এটি বিশ্বভারতীর জন্য যুক্তিপূর্ণ হতে পারে, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতির জন্য একেবারেই নয়। বিশ্বভারতী যেমন গরিমায় উজ্জ্বল, তেমন সমস্যাও তাকে সামলাতে হবে। ‘‌আমি পারছি না’‌ বলে হাত তুলে দিতে পারে না। দোল উৎসবের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বিশৃঙ্খলতার কারণে উৎসব বন্ধ করে দেওয়ার কথা উঠেছে। শান্তিনিকেতনে যাঁরা থাকেন না, তাঁদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবা হচ্ছে। কেন?‌ শুনতে কঠিন হলেও, বাংলার বহু গুণী মানু্্ষ শান্তিনিকেতনের বাইরেই থাকেন। দোল উৎসবে শান্তিনিকেতনে তাঁরা যেতে পারবেন না?‌ কেন?‌ হোটেল, গেস্ট হাউস নাকি বন্ধ থাকবে। কেন?‌ কলকাতার কোনও উৎসবে একথা ভাবা যাবে?‌ মনে রাখতে হবে, শান্তিনিকেতনের বহু মানুষ, বিশ্বভারতীর বহু অধ্যাপক, ছাত্রছাত্রী, কর্মী লিখতে, গাইতে, অঁাকতে, চাকরি করতে, উপার্জন করতে, এমনকী বাড়ি ফ্ল্যাট বানাতে কলকাতা–‌সহ গোটা বাংলায় ছড়িয়ে আছেন। এঁরা কি কলকাতায় বহিরাগত? না, এঁরা বাংলার মানুষ, বাংলার গর্ব। তাহলে কলকাতা বা বাংলার মানুষ শান্তিনিকেতনে গেলেও তাঁদের ‘‌বহিরাগত’ বলা হবে কেন?‌‌ সেটা বেআইনি এবং অন্যায়। কীভাবে বিশৃঙ্খলা, হল্লোড়, অসভ্যতা আটকে (‌বাইরের এবং ভিতরের) দোল উৎসব পালন করা যায় সেটা দেখা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং সেখানকার প্রশাসনের দায়িত্ব ও কর্তব্য। একইভাবে পৌষমেলাও তাই। পরিকাঠামো নিয়ে বিশ্বভারতীকে ভাবতে হবে। কখনও বহিরাগত, কখনও পরিকাঠামোর প্রশ্ন তুলে ঐতিহ্যের উৎসব বন্ধ করা যায় কি?‌ পৌষমেলা চালু করবার বিষষে রাজ্য সরকার সহযোগিতার হাত বাড়াতে চেয়েছে। এটা ভাল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top