যুদ্ধের জিগির তুলছে বেশ কয়েকটা চ্যানেল। কোনটি শীর্ষবাছাই, ‌তা নিয়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। সঞ্চালক সামনের চুল কায়দা করে ঝঁাকিয়ে, টাই গোছাতে গোছাতে বিজেপি–‌র হয়ে সরাসরি প্রচার করেন চ্যানেলের জন্মলগ্ন থেকেই। মাঝে অসুবিধেয় পড়েছিলেন অর্ণবজি, কেন্দ্রীয় সরকার একটার পর একটা খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে বিজেপি–‌র শোচনীয় বিপর্যয় ঘটায়। তবে, সুযোগ পেলেই যুদ্ধের জিগির তোলা, সাম্প্রদায়িক মনোভাব জাগিয়ে তোলায় সক্রিয় ছিলেন। পুলওয়ামা কাণ্ডের পর ফর্ম–‌এ ফিরলেন তিনি। লুফে নিলেন। কিছু বিরোধী মতের লোককে কীভাবে যেন জড়ো করেন। তঁাদের কটু কথা বলার জন্য ভয়ঙ্কর বক্তারা তো আছেনই, নেতৃত্ব দেন স্বয়ং সঞ্চালক। টেবিলে ঘুসি মারাও শুরু করেছেন। একেবারে ফুটছেন। তিনজন প্রাক্তন ক্রিকেটার দাবি তোলেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা উচিত নয় ভারতের। প্রথমে সুনীল গাভাসকার, তারপর শচীন তেন্ডুলকার ভিন্নমত প্রকাশ করলেন। শচীন বললেন, পাকিস্তানকে পয়েন্ট ছাড়ব কেন, হারাতে হবে। অর্ণববাবু বললেন— ট্রেটর!‌ ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ চলার সময়ে বিশ্বকাপে ছিল ভারত–‌পাক ম্যাচ। সতীর্থদের শচীন বলেন, জওয়ানরা লড়ছেন, আমরা সঙ্গে থাকতে পারি ম্যাচ জিতে। দুর্ধর্ষ পিটিয়ে ম্যাচ জেতান তিনিই। ক্রিকেট সরঞ্জাম রাখার বড় ব্যাগটিকে বলা হয় ‘‌কফিন’‌। তার ওপর জাতীয় পতাকার ছবি রাখতেন শচীন। এবারও জওয়ান কল্যাণ তহবিলে নিজে কিছু দিয়েছেন, রাস্তায় নেমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনি মাঠে থাকলে, যেন হাতে থাকত অদৃশ্য জাতীয় পতাকা। কে দেশপ্রেমিক, অর্ণব গোস্বামী না শচীন তেন্ডুলকার?‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top