নৈহাটি অরবিন্দ রোডের বড়কালী পুজো সমিতি তৈরি করল দৃষ্টান্ত। পুজোয় পাওয়া ১২ ডেকচি ভর্তি রকমারি ফল তারা বিতরণ করল কম করে সাতটি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমে। একেই বোধহয় বলে ‘‌সু–‌ফল’।‌ শুধু এবছর নয়, সমিতি বেশ কয়েকবছর ধরেই একাজ করে আসছে। করছে নিঃশব্দে। কোনও প্রচার নেই। নেই ঢাক পেটানো। হাতে আপেল–‌কলা ধরে কেউ ফেসবুকে প্রচারও করেননি। কর্তব্য এবং বিশ্বাসই তাদের সম্বল।  এই ঘটনা অনেকদিকে চোখ খুলে দেয়। কাকে দেব?‌ কারা বেশি দরকার?‌ কীভাবে দেব?‌ যা অতিরিক্ত তা কুক্ষিগত করে নষ্ট করব নাকি ভাগ করব? ছোট পরিসরে ‘‌দৃষ্টান্ত’‌ যেন। দেশের সরকারকে ভাবতে হবে সরকারি অর্থ, অনুদান যাচ্ছে কার হাতে?‌‌ ধনী, বিত্তবানরাই সরকারের ‘‌উপভোক্তা’‌ হবেন?‌ নাকি দরিদ্র মানুষ?‌ কেন্দ্রের ভুল বিবেচনায় অর্থনীতি বেহাল। একটার পর একটা শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ নেই। কলকারখানার শ্রমিকের কাজ নেই, কৃষকের ফসলের দাম নেই। বাজার ভেঙে পড়ছে। সরকার বিত্তবানকে নিয়ে ব্যস্ত। অর্থনীতি চাঙা করবার মূল সূত্রটি বন্টনের পদ্ধতিতে লুকিয়ে থাকে। সেখানেই গলদ। অর্থ বিলিতে সঠিক উপভোক্তাদের একটা বড় অংশ বঞ্চিত হয়। দেশের সরকারের অর্থনীতি ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। যে অর্থনীতি  কৃষককে ফসলের নায্য দাম দিতে পারে না, শ্রমিককে নিশ্চয়তা দেয় না সে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। আবার শুধু ‘‌বিতরণ’‌ও সমাধান নয়। ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হয়। শুধু বিত্তবানরাই বারবার সরকারের সুনজরে পড়ে তাহলে দেশের সর্বনাশ ঠেকাবে কে?‌ একমাত্র ঠিক ভাবনাচিন্তাতেই ‘‌সু–‌‌ফল’‌ মেলে। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top