শুধু শারীরিক নয়, সর্বার্থেই বিরাট উচ্চতা অমিতাভ বচ্চনের। সত্তরের দশকে বদলাতে–‌থাকা ভারতে ‘‌অ্যাংরি ইয়ংম্যান’‌ ভাবমূর্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে হিন্দি সিনেমার চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন। দেশের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। আজও, মধ্য–‌সত্তরেও তিনি সক্রিয়। সমসাময়িক নায়করা যখন অবসর জীবন যাপন করছেন, তখনও অমিতাভ কাজ করে যাচ্ছেন। এমন কিছু ছবিও করছেন, যা তাঁর উচ্চতার নতুন নতুন দিক খুলে দিচ্ছে। নিজের বিনোদন ব্যবসা করতে গিয়ে অতলে পড়েছিলেন। অক্লান্ত তিনি, লড়াকু তিনি, প্রতিভাবান তিনি, দারুণভাবে ফিরে আসেন ‘‌কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’‌ রিয়েলিটি শো দিয়ে। সব ঋণ মিটিয়ে দেন। রাজনীতি করতে গিয়েও হাত পুড়িয়েছেন। মা তেজি বচ্চন ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর বন্ধু, অমিতাভ বন্ধু ছিলেন রাজীব গান্ধীর। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান এলাহাবাদ কেন্দ্রে এবং অনায়াসে জেতেন। দু’বছরের মধ্যে পড়ে যান বড় বিপদে। বোফর্স মামলায় উঠে আসে ভাই অজিতাভের নাম, সেই সূত্রে অমিতাভেরও। সমালোচনায় বিধ্বস্ত হয়ে লোকসভা ছাড়েন, ছাড়েন রাজনীতিও। অমর সিংয়ের সঙ্গে ছিল সখ্য, সেই সূত্রে মুলায়মের সঙ্গেও। সমাজবাদী পার্টির সরকারের বিজ্ঞাপনেও দেখা গেছে। পরে হয়ে গেলেন গুজরাট পর্যটনের দূত। অনেক বিজ্ঞাপন। কেন্দ্রে মোদি সরকারের স্বচ্ছ ভারত অভিযানের প্রধান মুখ। একটা টাকাও নেননি কিন্তু। প্রতি বছর কলকাতা চলচ্চিত্রোৎসবে এসে চমৎকার ভাষণ দিচ্ছেন ‘‌বাংলার জামাই’‌। গুজরাট–সঙ্গ নিয়ে কেউ কোথাও কটাক্ষ করেনি। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগে নরেন্দ্র মোদি চাইছেন সরকারি প্রকল্পের প্রচারে তাঁকে বড়ভাবে নামাতে। যা হয়ে দাঁড়াবে কার্যত বিজেপি–‌র প্রচার। আমরা আশা করব, সেই ডাকে সাড়া দেবেন না তুমুল জনপ্রিয় তারকা। মোবাইল ফোনে নাকি শোনা যাবে তাঁর বিখ্যাত ব্যারিটোন। অমিতাভ বচ্চনের কাছে আবেদন, কার্যত রাজনৈতিক ডাকে সাড়া দেবেন না। নিজেকে ব্যবহৃত হতে দেবেন না।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top