পৃথিবীর কোনও রাষ্ট্রনেতা তাঁর মতো বিদেশ সফর করেননি। তাঁকে বলা যায় বিশ্ব পর্যটক, মহা পর্যটক। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও আমেরিকা, চীনে গেছেন মোদি, অনেকবার, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। দশ বছরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চীনে গেছেন ২ বার। ৬ বছরে নরেন্দ্র মোদি? ৫ বার। প্রায় বার্ষিক সফর। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অন্য দেশেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। চীনা প্রধান যখন ভারতে এসেছিলেন, মামাল্লাপুরমে এলাহি ব্যবস্থা। দারুণ দোস্তি। সবরমতী আশ্রমের কাছে দু’জনকে দোলনায় দুলতেও দেখা গেল। বহুল প্রচারিত ছবি। এত বন্ধুত্বের পর কী হল? মার্চ মাসে, যখন বিশ্বে কোভিড–‌১৯ অতিমারী হিসেবে ঘোষিত, ভারতে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেদাবাদে বিমানবন্দর থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত উঁচু দেওয়াল, যাতে পাশের বস্তির চেহারা অতিথি না দেখেন। স্টেডিয়ামে এক লক্ষ লোক জড়ো করা হল, আড়ম্বরের খরচ প্রায় একশো কোটি টাকা। ট্রাম্পের সঙ্গে এসেছিলেন কয়েকশো লোক, নানা পর্যায়ের। ঘটনা এই যে, আমেদাবাদে দ্রুত ছড়াল সংক্রমণ, বিদেশ সংযোগ এবং ভিড় থেকে। দেশের সবচেয়ে আক্রান্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে গুজরাট। ৭০ শতাংশই আমেদাবাদের। মৃত্যুর হারও বেশি। সমাগমে খুশি ট্রাম্প। ক’‌দিন পরেই বললেন, ভারত যদি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন না দেয়, প্রত্যাঘাত হবে। সম্পর্ক‌!‌ এত বছর ধরে বন্ধু প্রতিবেশী নেপাল। ধীরে ধীরে ভারত–‌বিরোধিতা বেড়েছে। এবার সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বিল পাশ করে নিজেদের মানচিত্রে উত্তরাখণ্ডের কালাপানি, লিপুলেখ ও লিমপিয়াধুরা ঢোকাল নেপাল। চিরবন্ধু নেপালও সঙ্ঘাতে সায় দিল। ভুটানও বিরুদ্ধ স্বর তুলছে। শ্রীলঙ্কার বড় বন্দর ব্যবহার করছে চীন। সিএএ করে বাংলাদেশকেও চটানো হল। কূটনীতির এত ব্যর্থতা কার আসলে?‌ যিনি মহা পর্যটক।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top